১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে অপহরণের পর চাঁদা দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৬

নীলফামারীর ডিমলা থেকে ওই ব্যক্তিকে ডেকে এনে মারধর করে চার লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টাঙ্গাইলে অপহরণের পর চাঁদা দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৬
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর চাঁদা দাবির অভিযোগে এক নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2025, 09:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর চাঁদা দাবির অভিযোগে এক নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ভুক্তভোগীর দ্বিতীয় স্ত্রী আছেন। 

শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় অপহরণের শিকার ব্যক্তিকেও।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে হাসান মোল্লা (৩৪), মীর দেওহাটা গ্রামের প্রয়াত আতোয়ার হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৫), একই এলাকার রহিম সিকদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৪), কোদালিয়া গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে মো. রানা (২০), বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের মঙ্গল সিকদারের ছেলে আরিফ (৩৩) এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার তালচানা গ্রামের আলকেসের মেয়ে আকলিমা বেগম (৪০)। পলাতক আছেন মির্জাপুর উপজেলার রাকিব হোসেন (১৮)।

অপহরণের শিকার আব্দুর রহিম (৪৭) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, একই ইটভাটায় কাজ করার সময় রহিমের সঙ্গে আকলিমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা বিয়ে করেন। ইটভাটায় কাজ কমে গেলে রহিম নিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে তার আরেক স্ত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ৭ মাস আকলিমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি রহিম।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রহিমকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে আকলিমা। প্রথমে মোবাইলে রহিমকে মির্জাপুরে ডেকে নেন আকলিমা। রহিম মির্জাপুরে আকলিমার ভাড়া বাসায় আসার পরপর রাকিব হোসেনের নেতৃত্বে তাকে মারধর করে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে রহিমের স্বজনদের কাছে ফোন করে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। 

এক পর্যায়ে রহিমের স্বজনরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে রহিমকে উদ্ধারসহ ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটির আড়ালে অপহরণসহ বিভিন্ন চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ার কথা বলেছেন ওসি রাশেদুল ইসলাম।

অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।