Published : 30 May 2026, 09:31 PM
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষায় ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বালু ব্যবসায়ীদের কয়েকটি টোল ঘর গুঁড়িয়ে দেয়।
শনিবার দুপুরে সচেতন তরুণ সমাজ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট বাজার এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ, প্রভাষক নিহারিকা শারমিন, ফকিরেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, চিলমারী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার বদরুল ইসলাম রাঞ্জু, সহকারী অধ্যাপক আকতারা লিপি, শিক্ষার্থী মো. শাহজালাল, আশিক ইকবাল ইশাত এবং রফিকুল ইসলাম রতন বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, এখানকার বালু ও নদীরক্ষা ব্লক চুরি করে ব্রহ্মপুত্র তীরকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। জনগণ সরকারকে রাজস্ব দিবে কিন্তু একটি কণা বালুর সঙ্গে কোনো ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে দেবে না।
তারা বলেন, ফকিরের হাট থেকে কাঁচকোল এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাদের মদদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে মৌখিক-লিখিত অভিযোগ দিয়েও কাজ না হওয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছেন তারা।

ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষায় ৬ দাবি
ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষায় ছয় দফা দাবি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্র নদে বালু উত্তোলন বন্ধসহ পরিকল্পিত ও পরিবেশসম্মত নদী খনন নিশ্চিত করা। ফকিরের হাট থেকে কাচকোল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের ডানতীরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা। টি-বাঁধ, পিসি ব্লক, জিও ব্যাগসহ মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদান করা। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, পিসি ব্লক অপসারণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট এবং জমি লিজ দাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ, জনস্বার্থ ও নদী তীরবর্তী জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত, কার্যকর ও দৃশ্যমান টাস্কফোর্স এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিশ্চিত করা।
মানবন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে প্রভাষক নিহারিকা শারমিন বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ব্রিটিশ শাসনের ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক শাসন ব্যবস্থা থেকে যাওয়ায় এখন জনগণ দাস আর প্রশাসন প্রভুর আসনে বসে আছে।

ফকিরের হাট থেকে কাঁচকোল এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক মদদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় রাণীগঞ্জ ইউনিয়নবাসী হুমকির মুখে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে মৌখিক-লিখিত অভিযোগ দিয়েও কানও কাজ হচ্ছে না। প্রয়োজনে এখানকার বালু রাজস্ব খাতে যাবে। এতে এলাকার উন্নয়ন হবে। কিন্তু একটা কণা বালুর সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।”
যান্ত্রিক সুরক্ষার মাধ্যমে নদী ভাঙন রোধ করার আহ্বান জানান অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ।