২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মানিকগঞ্জে কুমির আতঙ্ক, নদীতে যেতে ভয়

জেলা প্রশাসক বলেন, “কুমিরের বিষয়ে বনবিভাগকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Oct 2025, 05:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

মানিকগঞ্জে পদ্মার একটি শাখা নদীতে কুমিরের বিচরণে কয়েক গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলেসহ স্থানীয় মানুষজন নদীতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।  

প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার চর বংখুরি এবং হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া, বোয়ালী, আইলকুণ্ডি, বাবরহাঁটি, খামারহাঁটি, বাকিহাঁটি, হারুকান্দি ইউনিয়নের কাশিয়াখালি ও তন্ত্রখোলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে প্রতিনিয়ত কুমিরের দেখা মিলছে। 

পদ্মা নদী ভেঙে একপাশে চরের মত জেগে ওঠেছে। তার পাশ দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীটি প্রবাহিত। এই নদীটি যেখানে শেষ হয়েছে তার কিছুটা দূরেই রয়েছে ইছামতি নদী। স্থানীয়ভাবে লোকজন একে ‘পদ্মার শাখা নদী’ হিসেবেই চেনেন।    

সদর উপজেলার হাঁটিপাড়া ইউনিয়নের চরবংখুড়ি গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ মাজেদা বেগম (২৩) বলেন, “রোববার সকালে বাড়ির সামনে নদীতে পানি আনতে গেলে হঠাৎ একটা কুমির খুব কাছে চলে আসে। আমার দিকে তেড়ে আসতে দেখে আমি দৌড়ে দূরে চলে যাই। পরে দেখি কুমিরটা পাশে থাকা হাঁসকে কামড়ে পানির নিচ টেনে নিয়ে গেছে।”

একই গ্রামের সাফিয়া বেগম (৫০) বলেন, “পানিতে নামতে ডর করে। কোন সময় জানি কুমিরে নিয়ে যায়।”

হারুকান্দি ইউনিয়নের তন্ত্রখোলা এলাকার হৃদয় বলেন, “আমরা আতঙ্কিত। গতকাল রাতে ভয় পাইছি। পরে কুমিরকে টেঁটা নিক্ষেপ করছি, তয় কুমিরের লাগে নাই। কুমির পানিতে চলে যায়।”

ধূলসুরা ইউনিয়নের নিয়োগীকান্দা এলাকার তারক গাঙ্গুলি বলেন, “আমি দুদিন আগে রাত ১১টার দিকে কুমির দেখেছি। আমরা ভয়ে আছি।”

কুমিরগুলোকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “কুমিরের বিষয়ে বনবিভাগকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”