১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌন হয়রানির অভিযোগ: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক চাকরিচ্যুত

গত জুনে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।

খুলনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2026, 02:15 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

যৌন হয়রানির অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জানানো হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নিরোধ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত জুনের মাঝামাঝি অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর তাকে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ওই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তমূলক ও অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন। 

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেন। পরে ভুক্তভোগীর পক্ষে বার্তার স্ক্রিনশটসহ লিখিত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নিরোধ কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়।

রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নিরোধ কেন্দ্রের ২৩ ও ২৪ নম্বর অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিন্ডিকেট উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছে, ২৩ ও ২৪ নম্বর অভিযোগের একটি বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধেও।

সম্প্রতি রেজাউল ইসলাম ও রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ’২৪ হলের এক ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। ২৩ জুলাই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোয় তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে ২৬ জুলাই সকালে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছ-বিজয় ’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।