Published : 10 Jul 2025, 07:18 PM
কুমিল্লায় গোমতীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে এরই মধ্যে ডুবে গেছে নদীর দুই বাঁধের মাঝখানের কৃষি জমি ও বাড়িঘর।
গেল বছরের বন্যায় চরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল; যার ক্ষত এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি কৃষকরা। নদীতে পানি বাড়লেই শুরুতে ডুবে যায় তাদের ফসল। এবারও বন্যার শুরুতেই কষ্টের ফসল হারিয়ে কাঁদছেন চরের কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সদর উপজেলার আমতলী ও কাচিয়াতলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হেক্টরের পর হেক্টর যেসব জমিতে করলা, মুলা, লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছিল, তা এখন পানির নিচে। ফসল ঘরে তোলার মাত্র দুইদিন আগেই বন্যার পানিতে সব তলিয়ে গেছে।
গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭৩ মিটার হলেও পানির উচ্চতা ছয় থেকে আট মিটার হলেই ডুবে যায় চরের অনেক কৃষিজমি। তাই নদীর পানি বাড়লেই অনেক কৃষককে তুলে ফেলতে হয়েছে অপরিপক্ব ফলন। মাথায় হাত দিয়ে নদীর ধারে অনেকে বসে থাকতে দেখা গেছে।
গেল বছরের বন্যার ক্ষতি পুশিয়ে নিতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ অবলম্বন টুকুর দিকে অশ্রুজলে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছেন কেউ কেউ।
আমতলী এলাকার কৃষক শাহ আলম বলেন, “গোমতীর চরে প্রায় তিন একর জমিতে করলাসহ নানা জাতের সবজি চাষ করেছি। আর মাত্র দুই দিন পর এসব ফসল বাজারে বিক্রি করা যেত কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সব ফলন তলিয়ে গেছে।

“ঋণ নিয়ে দুই বছর আগে থেকে কৃষি কাজ শুরু করেছি। করলা যা পারছি সংগ্রহ করছি, অন্যান্য সব ফসল পানির নিচে। আমার ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঋণ কীভাবে শোধ করব। শুধু আমার নয় এই চরে আশেপাশেই প্রায় ২০ কৃষক রয়েছেন; যাদের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি গুণতে হবে।”
তিনি বলেন, গত বছরও বন্যায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এবার তার চেয়ে বেশি হয়েছে। যে মুহূর্তে ফসল ঘরে তোলা হবে, সেই মুহূর্তে বন্যার পানিতে সব ডুবে গেছে।
কাচিয়াতলি এলাকার কৃষক শাহাদাত হোসেন ও মিন্টু মিয়া বলেন, গত বছরের বন্যা থেকে এ বছর লোকসান বেশি হয়েছে। কারণ গত বছর জমিতে ফলন তেমন ছিল না, কিন্তু এ বছর তো ফলন তোলার মুহূর্তে বন্যায় সব ভেসে গেছে।
ক্ষেতের মরিচ, ধনে পাতা, মিষ্টি কুমড়া ও মুলা ছয় ফুট পানির নিচে। মাচায় কিছু করলা আছে সেগুলো নৌকায় করে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বেশিরভাগ ফসল পানিতে ভেসে গেছে। এভাবে যদি বৃষ্টি থাকে তাহলে মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, চলতি মৌসুমে গোমতী নদীর চরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঢলের পানি কমে গেলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাবে।
সব উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে; সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ দেয় তাহলে তারা পাবেন বলে জানান তিনি।