Published : 19 Dec 2025, 07:55 PM
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের একটি সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে বাঘ বাংলাদেশের লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে এমন খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তসংলগ্ন এলাকার মানুষজনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয়রা বলছেন, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের বালারহাট এলাকার পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চল থেকে একটি বাঘ সেখানকার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ওই লোকালয় বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভারতের ভেতরে। স্থানীয়দের হইচইয়ের মুখে বাঘটি আবার বনাঞ্চলের দিকে চলে যায়।
ভারতের ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শ্রীমুখ ক্যাম্পের টহল দল এ তথ্য বাংলাদেশ অংশে দায়িত্বরত ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) নাজিরগোমানী ক্যাম্পকে জানায়।
পরে বিজিবি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দেয়। এতে গভীর রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং চলাচলে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়রা বলেন, বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৬৮-এর ৩ নম্বর উপ-পিলারের কাছে কাঁটাতারবিহীন এলাকায় এ আশঙ্কা দেখা দেয়। ওই অংশটি ভারতের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার বালারহাট এলাকা এবং বাংলাদেশের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ও জোংড়া ইউনিয়নের সন্নিকটে অবস্থিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এর আগেও ভারতের ওই এলাকায় বাঘের উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। এক সপ্তাহ আগে দুটি বাঘ লোকালয়ে ঢুকলে একটি বাঘ বনবিভাগ আটক করে এবং আরেকটি স্থানীয়দের হাতে মারা যায় বলে তারা শুনেছেন। এসব ঘটনার কারণেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
মোহাম্মদপুর ককোয়াবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, “বাঘ বের হয়েছে—এমন কথাই শুধু শুনছি। নিজেরা চোখে দেখিনি। কিন্তু আত্মীয়স্বজন ফোন দিয়ে খোঁজ নেয়, তাই ভয় লাগে।”
একই এলাকার কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, “ক্ষেতে কাজ করতে গেলে এসব কথা শুনে ভয় কাজ করে। কেউ দেখেনি, তবু আতঙ্ক থেকেই যায়।”
এ বিষয়ে জানতে নাজিরগোমানী বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডারের মোবাইলে ফোন করলে তিনি ধরেননি।
বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশে বাঘ প্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেউ বাঘ দেখেনি। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমান্তবাসীদের সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি কিছুটা অতিরঞ্জিতভাবে ছড়িয়েছে।”