Published : 24 Mar 2026, 04:29 PM
গোপালগঞ্জ শহরের একাধিক পাম্পে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ কমে গিয়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না মেলায় সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিশেষ করে বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
মঙ্গলবার শহরের অন্তত তিনটি পাম্পে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও সব ধরনের তেল নেই। যে তেল রয়েছে, তাতে বিপুল গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো।
শহরের পাথালিয়া এলাকার শরিফ নুরজাহান ফিলিং স্টেশনে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সরবরাহ নেই। দোলা ফিলিং স্টেশনে শুধু ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। আর নিগি ফিলিং স্টেশনে কেবল পেট্রোল ও ডিজেল মিলছে।
নিগি পেট্রোল পাম্পের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “আমি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ তেল পাচ্ছি, তাও শুধু পেট্রোল ও ডিজেল। তেল পরিবহনের খরচও ঠিকমতো উঠছে না।
“সেবা দেওয়ার জন্যই তো পাম্প চালু রেখেছি। কিন্তু যে জ্বালানি ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে, তা আমার অর্ধেক দিনের জন্যও যথেষ্ট নয়। এ জ্বালানি দিয়ে এখন তিন-চার দিন চালাতে হচ্ছে।”
শরিফ নুরজাহান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বাচ্চু শেখ বলেন,“মার্চের ১৭ তারিখে আমরা ৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল ও ২ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছিলাম। তা দিয়ে রোববার পর্যন্ত অল্প অল্প করে কাস্টমারদের দিতে পেরেছি। এরপর ডিপো থেকে আর কোনো ধরনের জ্বালানি সরবরাহ পাইনি।”
দোলা ফিলিং স্টেশনের তেলবাহী গাড়ির চালক মোহাম্মদ রাহাত বিশ্বাস বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে ডিপোতে গেলেও তেল পাচ্ছি না। ডিপোর অফিসগুলো তালাবদ্ধ থাকে, ফোনও ধরছে না। ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না। এ কারণে সংকট দেখা দিয়েছে।”
এদিকে তেল নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, যানবাহন চালক ও কৃষক।
বাইক চালক কামরান মোল্লা বলেন,“পাম্প খোলার আগে গিয়ে সিরিয়াল দিলে বলে অপেক্ষা করতে। পরে গিয়ে দেখি বিশাল লাইন।
“তাও মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যদি এত কম তেল পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের জন্য তা খুবই কষ্টকর।”
শহরের চেচানিয়াকান্দি এলাকার কৃষক মহেন্দ্র বিশ্বাস বলছিলেন, “বোরো ধান আমাদের প্রধান ফসল। এখন এ ফসলে সেচ দিতে হচ্ছে।
“সেচ দিতে প্রতিদিন আমাদের ব্লকে অন্তত ৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ি ডিজেল পাচ্ছি না।”
তিনি বলেন, “বিভিন্ন পাম্পে ধরণা দিয়েও ডিজেল মিলাতে পারছি না। ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।”
খুলনা থেকে গোপালগঞ্জগামী বাসের চালক রহমান মোল্লা বলেন, “আমর একশ লিটার ডিজেল দরকার। কিন্তু খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের তিন পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে মাত্র ৫৫ লিটার ডিজেল পেয়েছি।
“এ অবস্থা চলতে থাকলে যাত্রী পরিসেবা ব্যাহত হবে। ঈদ ফেরত যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।”
ট্রাক চালক খান আনিসুর রহমান বলেন, “আমি দূরপাল্লার ট্রাক চালাই। গোপালগঞ্জ থেকে বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রামে পণ্য পরিবহন করি। কিন্তু তেল সংকটে পথেই দুই থেকে তিন দিন কেটে যায়।
“এতে পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যের মালিকদের ট্রাকের ড্যামোরেজ দিতে হচ্ছে। পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।”