০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জরুরি বিবেচনায়’ তেল পেলেন না বিদ্যুৎকর্মী, ‘অন্ধকারে’ মিরপুর

ইউএনও বলেন, ‘কাউকে কোন বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে হয়ত কেউ ক্ষুব্ধ হতেই পারেন।’

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Apr 2026, 06:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:22 PM

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় বিদ্যুৎকর্মীরা পাম্পে গিয়ে ‘জরুরি বিবেচনায়’ তেল চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে লাইন ঠিক করতে না পারায় সারা উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিরপুর অঞ্চলে উপ-মহাব্যবস্থাপক আরিফুল হক বলেন, “জরুরি বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখতে আমাদের কর্মীরা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মুখে তারা তেল না পেয়েই ফিরে আসে। গাড়ির তেল না পেলে বিদ্যুৎসেবা চালু হবে কীভাবে? এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

বুধবার বৈরী আবহাওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাব-স্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। লাইনগুলো মেরামতের জন্য সকালে মল্লিক তেল পাম্পে পল্লী বিদ্যুতের চার কর্মী মোটরসাইকেলের তেল নিতে যান। 

এ সময় ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বলেন। 

ইউএনও বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে হয়ত কেউ ক্ষুব্ধ হতেই পারেন।”

অভিযোগ উঠেছে, তেল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ মেরামতের কাজ ব্যাহত হয় এবং ক্ষোভে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বলেন, “বৈরী আবহাওয়া ও বজ্রপাতের ঘটনায় রাত থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। তেল নিতে গিয়ে লম্বা লাইন দেখে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি এবং ওই পাম্পে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করি, যাতে জরুরি বিবেচনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা তেল নিয়ে কাজে যেতে পারি। 

“কিন্তু উনি আমাদের অনুরোধ তো শুনেননি; উপরন্তু আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এই অবস্থায় আমরা তেল না পেয়ে আমাদের উপকেন্দ্রে ফিরে আসি।”

বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা দেখার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”