১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাইবান্ধায় স্কুল কমিটির দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে আহত ছাত্রশিবির কর্মীর মৃত্যু

এ নিয়ে এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের দুজনের মৃত্যু হল।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 07:34 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে আহত ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

নিহত সালাউদ্দিন (২৬) সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য এবং উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের সামছুল হোদা দুদুর ছেলে।

৪৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান জানান। 

২১ জুন বিকালে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন সালাউদ্দিন। একই ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ্ বারী (২৪) নিহত হন। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের দুজনের মৃত্যু হল। 

পুলিশ জানায়, উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় যুবদল নেতা মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে ওই তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়। 

এ ঘটনার পর বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় মুকুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। 

স্থানীয়রা তাদেরকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পথেই সাইফুল্লাহ বারী মারা যান। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম দিয়ে আরও ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মুকুলকে বহিষ্কার করা হয়।

সাঘাটা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, এই মামলায় মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।