Published : 01 Apr 2026, 05:25 PM
বরিশালে চরমোনাইয়ের মাহফিলে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে আসা একটি লঞ্চ কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গেছে। তবে লঞ্চটি খালি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চরমোনাই মাহফিলের বাসা-বাড়ি ঘাটে ভিড়িয়ে রাখা লঞ্চটি ডুবে গেছে বলে চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বুধবার থেকে চরমোনাইয়ে তিনদিন ব্যাপি ফাল্গুনের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শুরু হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা তিনশ যাত্রী মাহফিলে অংশ নিতে এমভি মানিক-৪ লঞ্চটি রিজার্ভ করেছিলেন। লঞ্চটি ভোরে বাসা বাড়ী ঘাটে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে সেখানেই অবস্থান করছিল।
এর মধ্যে ভাটার কারণে পানি কমে গেলে লঞ্চের পেছনের দিকটা দেবে যায়। পরে বেলা ১১টার দিকে ধীরে ধীরে লঞ্চটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে যায়। তবে এ সময় কোনো যাত্রী বা লঞ্চ সংশ্লিষ্ট কেউ ভেতরে ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, বুধবার জোহর নামাজের পর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়েছে।
মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং তৃতীয় দিনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী যুব, ছাত্র ও শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যোগে বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার ফজর নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে। বর্তমানে ঘাটে ২৫-৩০টি লঞ্চ রয়েছে। এছাড়াও ইঞ্জিনচালিত প্রচুর নৌযান তীরে ভেড়ানো আছে।
বরিশাল নৌ-ফায়ার স্টেশনের অফিসার সনাজ মিয়া বলেন, এ ঘটনায় কোনো নিখোঁজের খবর নেই। খবর পেয়ে তাদের ডুবুরীরা তল্লাশী করে লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করেছেন। লঞ্চটি নদীর ৫৫ ফুট গভীরে রয়েছে।

লঞ্চটি বরিশাল-জনতাবাজার/চাঁদপুর রুটের মূল চ্যানেলের বাইরে অবস্থান করছে, যার ফলে নৌ-চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। পরবর্তীতে অধিক নৌ-নিরাপত্তার স্বার্থে নিমজ্জিত স্থানে একটি সবুজ জিআরপি লাইটেড বয়া স্থাপন করে মার্কিং করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও পরিচালন বিভাগের সহকারী পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন দাবি করেন লঞ্চটি ৩৩ ফুট গভীর পানিতে রয়েছে। এতে নৌ-চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
তিনি আরও বলেন, তারা লঞ্চটি উদ্ধার করবেন না। লঞ্চটির মালিকপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ তাদের নিজ খরচে উদ্ধার করবে। উদ্ধারের জন্য তাদের সময় দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা না উঠালে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লঞ্চটির বর্তমান পরিচালক ফজলুল হক বলেন, ঢাকা থেকে ডুবুরি দল এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধি দল দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।