Published : 17 Jun 2026, 08:11 AM
বিশ্বকাপের মঞ্চে পোড় খাওয়া ইংল্যান্ডের হারানো গর্ব ফিরিয়ে আনার ভার টমাস টুখেলের কাঁধে। কিন্তু, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যাত্রা শুরুর আগে টুখেলের চুক্তির অন্য একটি শর্ত এখন আলোচনায়। বিশ্বকাপে দলের সাফল্যের ওপরই নাকি নির্ভর করবে সামনের দিনে তার দায়িত্বে থাকা, না থাকা!
টুখেলের এই অগ্নিপরীক্ষা শুরু হবে বুধবার ডালাসের ম্যাচ দিয়ে। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে প্রথম ও সবশেষ ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ড।
৬০ বছর আগে ঘরের মাঠে ওই সাফল্যের পর, ইংল্যান্ডের হাল ধরা বিদেশি কোচদের মধ্যে তৃতীয় জন টুখেল। আগের দুজন ছিলেন সুইডিশ সভেন গোরান এরিকসন ও ইতালিয়ান ফাবিও কাপেলো।
২০২৪ সালে প্রথম জার্মান কোচ হিসেবে টুখেল দায়িত্ব নেন ইংল্যান্ডের। ওই চুক্তিতে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ৫২ বছর বয়সী এই কোচকে নিয়োগ দিয়েছিল উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
চলতি বছরের শুরুতে আরও দুই বছরের জন্য চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হয় দুই পক্ষ। তাতে, ঘরের মাঠে ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত ‘থ্রি-লায়ন্স’দের ডাগআউটে থাকার কথা টুখেলের।
এই সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বকাপ চলাকালে প্রশ্ন উঠেছে এফএ’র প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহ্যাম একটি শর্ত প্রকাশ করে দেওয়ায়। সেই অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফলের ওপর নির্ভর করবে টুখেলের সাথে এফএ’র পরের দুই বছরের চুক্তির ভবিষ্যৎ।
অবশ্য, চুক্তির কোনো ধারা টুখেল কাজে লাগিয়ে থেকে যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি বুলিংহ্যাম।
“এফএ’র প্রতিটি চুক্তিতেই পারফরম্যান্স ক্লজ থাকে, কিন্তু আমি এটার বিস্তারিত বলব না। (চুক্তি ভেঙে দেওয়ার কোনো শর্ত টুখেল সক্রিয় করতে পারবেন কিনা) আমরা তাকে চুক্তিতে বহাল রাখতে পারি।”
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও পিএসজি ঘুরে ২০২১ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল চেলসির দায়িত্ব নেন টুখেল। দলটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা এনে দিলেও, সেখানে এই জার্মান টিকতে পারেননি। পরের বছর দেশে ফিরে হাল ধরেন বুন্ডেসলিগার দল বায়ার্ন মিউনিখের।
দুই বছর আগে টুখেল ইংল্যান্ডের দায়িত্ব পাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল এফএ’কে। বুলিংহ্যাম বললেন, অনেক কিছু বিবেচনা করেই আরও দুই বছরের জন্য কোচের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন তারা।
“বাস্তবতা হচ্ছে, সে একজন শীর্ষমানের কোচ, যার চাহিদা আছে। আমরা জানতাম, আমরা এমন একজনকে পেয়েছি, যিনি সত্যিই খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা কেবল এটাই আশা করতে পারি না যে, কেউ সবকিছু ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষা করে বসে থাকবে এবং দেখবে, পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।”
“কোনো পেশাতেই এটা বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের একজন কোচ আছেন, যিনি আসলেই ভালো কাজ করছেন। আমরা ভেবেছিলাম, তার সাথে চুক্তি আরও দুই বছর বাড়াতে পারি- (ইউরো ২০২৮) এই টুর্নামেন্ট হবে আমাদের ঘরের মাঠে। যেখানে আরও বেশি চাপ থাকবে। আমাদের এমন একজন কোচ আছেন, যিনি এ ধরণের পরিস্থিতিতে আগেও পড়েছেন এবং সফলও হয়েছেন।”