Published : 17 Jun 2026, 08:32 AM
একটি স্বপ্ন আজও তাড়া করে ফিরছে পর্তুগাল। ব্রুনো ফের্নান্দেসও। ইউসেবিও পারেননি, লুইস ফিগোও ব্যর্থ সেই স্বপ্ন পূরণে। দলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকা আছেন, ইউরোপ সেরার মুকুট, নেশন্স লিগের ট্রফিও ঘরে এসেছে, কিন্তু বিশ্বকাপ আজও পর্তুগিজদের জন্য সোনার হরিণ। দলটির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দেস এবার, এতদিনের না পারার বৃত্ত ভেঙে, ভাসতে চান স্বপ্ন পূরণের উচ্ছ্বাসে।
সে পথে পর্তুগাল যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১১টায়। হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘কে’ গ্রুপের অন্য দুই দল উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।
এই গ্রুপে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে অনুমিতভাবেই পর্তুগাল। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইউসেবিওর হাত ধরে তৃতীয় হওয়া যাদের আজও সেরা সাফল্য। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন ফিগো, কিন্তু পর্তুগালকে পৌঁছে দিতে পারেননি স্বপ্নের বন্দরে।
রোনালদোর হাত ধরে ২০১৬ সালে ইউরোর ট্রফি ঘরে উঠেছে, এরপর দুটি উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা জয়ের সঙ্গী ছিলেন ফের্নান্দেসও; কিন্তু বিশ্বকাপের শূন্যতা কি আর তাতে ঘোঁচে! ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফের্নান্দেসের কথায় থাকল, না পাওয়ার হতাশা। চূড়ায় ওঠার প্রত্যয়ও।
“স্বপ্ন হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। পর্তুগাল যে কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি, এটা বদলাতে আমরা কী করতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথম দল হিসেবে দেশে বিশ্বকাপ নিয়ে ফিরতে পারি, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া।”
গত বছরই ইউরোপ সেরা স্পেনকে হারিয়ে নেশন্স লিগের দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। ওই সাফল্যে থেকে বিশ্বকাপের পথচলার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
“ওই সাফল্য আমাদের ভালো অনুভূতি দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক এবং এই মুহূর্তে যারা পর্তুগালকে প্রতিনিধিত্ব করছে, সামগ্রিকভাবে তাদের মান এবং যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখার প্রতিফলন এটি। জানি, খুবই শক্তিশালী দল আমরা। আসলেই আমরা বিশ্বাস করি, দুর্দান্ত একটা বিশ্বকাপ পার করতে পারি আমরা।”
ফের্নান্দেসের এমন বিশ্বাসের কারণের একটি, বর্তমান দলের সক্ষমতা। নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়ার মতো অভিজ্ঞরা আছেন। মুগ্ধতা ছড়ানো চেলসির পেদ্রো নেতো, এসি মিলানের রাফায়েল লেয়াওয়ের পাশাপাশি আছেন বের্নার্দো সিলভা। মহাতারকা রোনালদো তো আছেনই। একটা দল হয়ে এখন অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে চান ফের্নান্দেস।
“যখন আমি দলের চারপাশ দেখি, তখন অবিশ্বাস্য একটা দলকে দেখি, যে দল যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত এবং এটি আমার মনকে আত্মবিশ্বাসে ভরিয়ে দেয়। এটা কেবল আমাকে সাহায্য করার বিষয় না, বরং পরস্পরকে সহযোগিতা করে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর বিষয়।”
“আমাদের ওপর পর্তুগিজদের পুরো আস্থা আছে। তারা বিশ্বাস করে, বিশ্বের সেরা দল হওয়া, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মান আমাদের আছে। আমি মনে করি, আমাদের এ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিতে হবে এবং সেগুলোকে শক্তিতে রূপ দিতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে যে, দেশের মানুষ আমাদের পাশে আছে এবং আসলেই তারা জাতীয় দলের ওপর বিশ্বাস রাখে।”
‘কে’ গ্রুপের সেরা হওয়ার লড়াই জমতে পারে পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার মধ্যে। ফের্নান্দেস কলম্বিয়াকে আলাদাভাবেই প্রশংসা করলেন। পাশাপাশি সতীর্থদের ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার মনে করিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপে সহজ প্রতিপক্ষ বলে নেই কিছু।
“অবশ্যই, কলম্বিয়া খুবই শক্তিশালী একটি দল। আমরা জানি, তারা আমাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং তাদের দলে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। অনেক অনেক কলম্বিয়ান বিশ্বের সেরা লিগগুলোতে খেলছে। আসলে, বিশ্বকাপে যার বিপক্ষেই খেলুন না কেন, সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই।”