১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদপুরে খানাখন্দে ভরা ৩০ কিলোমিটার সড়ক ইট দিয়ে মেরামতের চেষ্টা

“মে মাসের শেষ দিকে কাপেটিং করার জন্য আরবিএল কোম্পানিকে টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ দিয়েছি। কিন্তু লম্বা সময়ে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের কারণে কাজটি শুরু করতে পারিনি।”

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jul 2025, 11:02 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

টানা বৃষ্টিতে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার এলাকা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। পিচ ও কার্পেটং উঠে গেছে বেশ কয়েকটি জায়গায়।

বৃষ্টি পানি খানাখন্দে জমছে থাকায় যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

এই দশা ফরিদপুর শহর থেকে ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করা ফরিদপুরসহ অন্তত দশ জেলার মানুষ।

ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার বলছেন, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু কাপের্টিয়ের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে কাজটি শুরু করতে দেরি হচ্ছে।

ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাখুন্ডা এলাকায় প্রায় দুই ইঞ্চি পরিমাণ খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়েছে। পুখুরিয়া মেসার্স ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের সামনে কাঁদাপানিতে ভরা খানাখন্দ। ভবুকদিয়া ঠাকুরবাড়ি পার হতেই মহাসড়কের টার্নিং পয়েন্টে প্রায় ৫ ইঞ্চি পরিমাণ গর্ত ও উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা সড়ক। এই স্থানটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

ডাঙ্গী সেতু থেকে ভবুকদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যেতেও সড়কের একই দশা। তালমা মোড়ে দেখা যায়, সেখান থেকে জামতলী সেতু ও মহিলা রোড বাজার পর্যন্ত বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন খুবই ধীরে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে।

বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার ও তার সহকারীরা সড়কটির সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়গুলোতে ইট দিয়ে চলাচলের জন্য মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। তবে সেটি অস্থায়ী বলে জানান সড়ক বিভাগ।

ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার বলেন, বর্তমান সরকার ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের চার লেনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৫’শ কোটি টাকা দিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্ত এখনও জেলা প্রশাসন আমাদের জমি বুঝিয়ে দেয়নি বিধায় আমরা মূল কাজটি করতে পরাছি না । আর এই কারনেই দীর্ঘ সময় সড়কটির ফরিদপুর অংশে কোন কাজ হয়নি।

“তারপরেও সড়কটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় ৪৯ কোটি টাকা দিয়েছে। আমার গত মে মাসের শেষ দিকে কাপেটিং করার জন্য আরবিএল কোম্পানিকে টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ দিয়েছি। কিন্তু লম্বা সময়ে ধারাবাহিব বৃষ্টিপাতের কারণে কাজটি শুরু করতে পারিনি। এ কারনেই বাধ্য হয়ে ইট দিয়ে সাময়িক ভাবে চলাচলের জন্য মেরামতের কাজ করছি।”