Published : 29 Aug 2026, 04:59 PM
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি চরের ঘাস খেয়ে অন্তত ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছে।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার।
খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা শুরু করেন।
শুভেন্দু সরকার বলেন, মহিষগুলোর অসুস্থ হওয়ার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ‘গ্লোবাল পয়জনিং’-এর কারণে ঘাসের গোড়ায় অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবে মূলত নাইট্রিক অ্যাসিড বা নাইট্রাস অক্সাইড জমতে পারে। এই ঘাস খেয়ে মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।”
তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কৃত্রিমভাবে বিষ প্রয়োগ করা হলে মহিষের জিহ্বায় তার চিহ্ন পাওয়ার কথা। কিন্তু অসুস্থ মহিষগুলোর জিহ্বায় কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই এখনই সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় মহিষ মালিক ও রাখালদের অভিযোগ, চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। ওই ঘাস খাওয়ার পরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে তাদের দাবি।
মহিষ মালিকরা বলেন, প্রতিদিনের মত শতাধিক মহিষ নিয়ে রাখালেরা লালচরে যান। চরের ঘাস খাওয়ার পর কয়েকটি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের গোয়ালঘরে নিয়ে আসা হয়। পরে একে একে কয়েকটি মহিষের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
সন্ধ্যার দিকে তিনটি মহিষ মারা যায়। মৃত মহিষগুলো রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের।
অসুস্থ মহিষগুলোর কয়েকটির অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন মালিকরা।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। বাকি মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে মহিষগুলো বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”