Published : 21 Feb 2026, 10:54 AM
যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। একুশের প্রথম প্রহরেই জেলা-উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শদ্ধা জানিয়েছেন মানুষ।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই শহীদ হন।
তাদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে পালিত হয়ে আসছে।
পাশাপাশি দেশে দিনটি শহীদ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
সিলেট
মহান একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছিল।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। রাত ১২টা ১মিনিট থেকে শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ।

প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারি, মুক্তিযোদ্ধরা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “মাতৃভাষা দিবস এদেশের জাতীয় জীবনের অনন্য এক দিন। এই দিবসে সর্বস্তরে মাতৃভাষা চর্চা হোক আগামীর অঙ্গীকার।”
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৮টায় প্রভাতফেরি আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে প্রভাতফেরি এসে মিলিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উদযাপনে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় শহীদ মিনারে সামনের রাস্তায় আলপনাও আঁকা হয়েছে।
যশোর :
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে যশোরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

রাত ১২টা ১ মিনিটে যশোর সরকারি এমএম কলেজে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। এরপর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যশোর জেলা বিএনপি, যশোর প্রেসক্লাব, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, ছাত্রদল, সিভিল সার্জন কার্যালয়, সংবাদপত্র পরিষদ,যশোর পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে।
রাত ১২টা ১ মিনিটে নগরীর টাউন হল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদিতে প্রথমে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করেন বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী।
পরে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দেলন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
ফুল দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
তিনি বলেন, শহীদ মিনারে মানুষের উপস্থিত প্রমাণ করে মানুষ তার অধিকার ফিরে পেয়েছে। বিগত সময়ে কখনো এতো মানুষের উপস্থিতি ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়নি।
“বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার মাধ্যমে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বিএনপি সরকারের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে।”
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে জেলায় আলোচনা সভা, রক্তদান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ :
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশনের মুক্তির সোপান শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
রাত ১২ টা ১মিনিটে শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম সোপান। এই দিনই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল এই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন স্বত্তা হবে।

“ভাষার জন্য লড়াই মানে, একটি মানচিত্রের জন্য লড়াই। সেই লড়াই ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল, শেষ হয়েছে একাত্তর সালে।”
নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে বার্তা হলো, নিজের মাতৃভাষাকে সবার উপরে রাখতে হবে এবং নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করতে হবে। একুশ আমাদের এটাই শেখায়।”
এরপরই জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিদেবন করেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জামালপুর:
জামালপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহর থেকেই শহরের দয়াময়ী এলাকায় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
১২টা ১ মিনিটে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী, পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জামালপুর জেলা প্রেসক্লাব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ ভাষা শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবদেন করেন।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সুন্দর হাতের লেখাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর:
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শেরপুরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে শেরপুর শহরের চকবাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনভর নানা কর্মসূচির সূচনা হয়।
প্রথমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম এবং শেরপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা।

পরে পর্যায়ক্রমে সরকারি সকল দপ্তর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এছাড়া দিবসটি ঘিরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং ভাষা শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিলসহ জেলা ও উপজেলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসের প্রথম প্রহরে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে বিনম্র শ্রদ্ধায় পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী।
এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনার বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।
শ্রদ্ধা অর্পণ শেষে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, “একুশের চেতনায় আমরা এখানে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি শহীদদের স্মরণ করার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভাষা, সংস্কৃতি সবকিছু আরো সমৃদ্ধি হবে “
জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মিলি কায়কোবাদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা আজ শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণ করতে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

কুড়িগ্রাম জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর বজলুল রশিদ শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, “ভবিষ্যতেও যেন এই শহীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।”
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “মহান একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা ও স্পিরিটের ধারাবাহিকতায় একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা এসেছে। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছি। আর এ স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। “
পিরোজপুর :
একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে পিরোজপুরের রাজনৈতিক নেতারাসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১মিনিটে পিরোজপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এর পরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান দেলোয়ার হোসেন সাঈদী পুত্র ও পিরোজপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।
এছাড়া জেলা বিএনপি ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এদিন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচীর আয়োজন করেছে।
এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
শ্রদ্ধা অর্পণ শেষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
জয়পুরহাট:
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জয়পুরহাটে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের জনগণ।
একুশের প্রথম প্রহরেই ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জামায়াতের আমির ফজলুর রহমান সাঈদ, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, প্রধান যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব।

পরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন সমূহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি দপ্তর ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনশহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিত্রাংকণ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ নানারকম আয়োজন রয়েছে জেলায় ।