Published : 27 Nov 2025, 09:47 PM
পর্যটকদের নিয়ে ফের চলাচল শুরু করবে বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় স্টিমারটি সদরঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেবে। মাঝে চাঁদপুর ঘাটে ভিড়বে। সেখান থেকে সরাসরি বরিশালে।
তবে এই উদ্যোগ বাণিজ্যিক নয়, পর্যটকদের জন্য স্টিমারটি দিনের বেলায় সপ্তাহে দুদিন চলাচল করবে বলে বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. জসীম উদ্দীন জানান।
১৬ নভেম্বর সদরঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পিএস মাহসুদ’ এর উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন। এরপর ২১ নভেম্বর থেকে এর যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীর অভাবে তা সম্ভব হয়নি।
জসীম উদ্দীন বলেন, প্রতি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে চাঁদপুর ঘাট যাবে। পরে সন্ধ্যায় বরিশাল ঘাটে এসে ভিড়বে। পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

বরিশালে স্টিমার ভেড়ার ঘাট এখনো তৈরি হয়নি জানিয়ে ব্যবস্থাপক বলেন, নৌ বন্দরে ভেড়ানোর মত জায়গা নেই। তাই বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় একটি পন্টুন রয়েছে সেখানে স্টিমারটি ভেড়ানো হবে। স্টিমারের ঘাট তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই ভিড়বে এবং সেখান থেকেই ছেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, আপাতত বিআইডব্লিউটিসি এটি পরিচালনা করবে। পরে ইজারা দেওয়া হবে। সপ্তাহে দুদিন বাদে বাকি দিনগুলোতে স্টিমারটি নৌ বিহারের জন্যও ভাড়া দেওয়া হবে। বিআইডব্লিউটিসির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সেটি ভাড়া নেওয়া যাবে।
জসীম উদ্দিন বলেন, স্টিমারে তিন শ্রেণির সিট রয়েছে। দ্বৈত শয্যার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতি কেবিনের ভাড়া দুই হাজার ২৬০ টাকা; সঙ্গে ৩৩০ টাকা ভ্যাট। দ্বিতীয় শ্রেণির দ্বৈত শয্যার কেবিনের ভাড়া এক হাজার ৬৫০ টাকা এবং সুলভ শ্রেণির চেয়ার ৬০০ টাকা।
এ ভাড়া ঢাকা থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত যথাক্রমে ৭৮৩ টাকা, ৫৬০ টাকা এবং ১৪০ টাকা। চাঁদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত যথাক্রমে এক হাজার ১৭৩ টাকা, ৮৪০ টাকা এবং ২৬০ টাকা।
বিআইডব্লিউটিসির ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. জাফর আহমেদ বলেন, স্টিমারটি সকাল সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যাবে। এখন পর্যন্ত কিছু কেবিনের টিকিট বিক্রি হয়েছে।

তবে কী পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
স্টিমারটি বাণিজ্যকভাবে যখন চলত তখন ৭০০ অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল জানিয়ে সহকারী ব্যবস্থাপক জাফর বলেন, এখন তো পর্যটকদের জন্য চলাচল করছে। তাই আসন সংখ্যা অনুযায়ী যাত্রী নেওয়া হবে।
কালের সাক্ষী ‘পিএস মাহসুদ’ ১৯২৮ সালে কলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে নির্মিত হয়। বেলজিয়ামের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১৯৮৩ সালে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ লিমিটেডের মাধ্যমে স্টিমারটির স্টিম ইঞ্জিনকে ডিজেল ইঞ্জিনে রূপান্তর করা হয়।
১৯৯৫ সালে এটিকে মেকানিক্যাল গিয়ার সিস্টেমে রূপান্তর করা হয়। ২০২২ সালে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একে আবার চলাচল উপযোগী করা হয়েছে।
এই স্টিমারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক প্রজন্মের গল্প। ব্রিটিশ আমল, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, এরপর পাকিস্তান আমল, তারপর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ।