Published : 24 Mar 2026, 05:50 PM
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জাল ভোট’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ‘বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর’ সমর্থকদের সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুর ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করা হয়েছে।
নড়িয়া থানার এসআই এনছের আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া।
মামলায় ২৮ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি।
সোমবার সকালে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা কুরবির চর কালাই ভূঁইয়ার কান্দি এবং দরবেশ খাঁর কান্দি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তালতলা দাখিল মাদ্র্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে।
তার জেরে রোববার বিএনপির এক সমর্থককে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ নিয়ে রাত থেকেই উত্তেজনা চলছিল এলাকায়।

পরে সোমবার সকালে জামায়াতের সমর্থক নাসির সিকদার ও খলিল শেখের নেতৃত্বে শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৪০টি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া হামলাকারীরা চারটি গরু, অলঙ্কার ও টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ১০ জন আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
তবে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এম মকবুল হোসাইন বলেন, “সেখানে আমাদের শক্তিশালী সংগঠন নেই, অনেক কর্মীও নেই। ফলে সেখানে বিএনপির সঙ্গে মারামারি করার বিষয় নেই। বিএনপির লোকজন নিজেরা নিজেরাই মারামারি করে আমাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এদিকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বরং পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে এলাকা।
ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, এ ঘটনায় সোমবার ১০ জনকে গ্রেপ্তার করলেও নতুন করে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আগের সংবাদ
‘জাল ভোট’ নিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’ সংঘর্ষে ৪০ বাড়ি ভাঙচুর, মুহুর্মুহু বোমা