Published : 17 Sep 2025, 02:10 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অবৈধ ক্রসিং বন্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের প্রতিবাদে দুইটি ট্রেন প্রায় আধাঘণ্টা আটকে রেখে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের গ্রিশনগর অবৈধ রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এসএম শফিকুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার দুপুরে কসবা থেকে আখাউড়াগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গ্রিশনগর রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে মারা যান কসবা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের ইয়াজুল ইসলামের স্ত্রী পপি আক্তার (২০) এবং একই উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের হেফজু মিয়ার ছেলে অটোরিকশাচালক সাদেক মিয়া (৩৮)।
এই ঘটনার পর বুধবার কসবা থেকে আখাউড়া যাওয়ার গঙ্গাসাগর ও ইমামবাড়ির মাঝামাঝি গ্রিশনগরে এলাকার অনুমতিহীন ক্রসিংয়ের রাস্তাটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে বিভাগ।
কিন্তু রাস্তাটি বন্ধের প্রতিবাদে রেলপথে অবস্থান নেয় আশপাশের এলাকার কয়েকশ মানুষ। তারা লাল পতাকা দেখিয়ে চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী ও ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে দেয়।
বিক্ষোভকারীরা দাবি এই রাস্তাটি দিয়ে দুই উপজেলার কয়েক হাজার লোকজন চলাচল করে তাই রাস্তাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে তাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্রসিংটি বন্ধ করা হলে রেলপথ অবরোধসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারিও দেন তারা।
পরে সাধারণ যাত্রীদের অনুরোধে ১১টার দিকে ট্রেন দুটিকে যেতে দেয় তারা।
ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রিশনগরের রেলক্রসিংটি অবৈধ, দুদিন আগে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় সেখানে দুজন মারা যান। তাই রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে দুটি ট্রেন আটকে দিলে তা আর করা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে জানান রেল পুলিশের এ কর্মকর্তা।