গাজীপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগ
“সুইটির দুই পা হাঁটুর নিচে থেঁতলানো ছিল।”
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক নারীকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
উপজেলার বরমী মধ্যপাড়া (মৃধা বাড়ি) গ্রামে বুধবার রাতের এ ঘটনায় গৃহবধূর শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ‘উত্তেজিত জনতা’ ওই নারীর স্বামী স্বামী নুরুল ইসলাম মৃধার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে শ্রীপুর থানার এস আই জাহাঙ্গীর আলম জানান।
নিহত গৃহবধূ সুইটি আক্তার নিশি (২২) ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার চাকুয়া গ্রামের আফসারুল ইসলামের মেয়ে।
তার স্বামী ৩৪ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম মৃধা উপজেলার বরমী মধ্যপাড়া (মৃধা বাড়ী) গ্রামের শাহ্জাহান মৃধার ছেলে।
পুলিশ বলছে, নুরুলের নামে শ্রীপুর থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
নিহতের খালাতো বোন আকলিমা আক্তার বলেন, “দেড় বছর আগে সুইটি আক্তার নিশির সঙ্গে নুরুল ইসলাম মৃধার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার মাসের এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর সুইটি জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত ও এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এর প্রতিবাদ করায় নুরুল সুইটিকে নির্যাতন করতো। গত ৩-৪ দিন আগে শ্রীপুর থানা পুলিশ নুরুলকে গ্রেপ্তার করতে যায়।
“তাকে না পেয়ে পুলিশ সুইটিকে জিজ্ঞাসা করে। সুইটি তার স্বামী মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে নুরুল ইসলাম, তার বাবা শাহ্জাহান মৃধা এবং মা জোবেদা খাতুন সুইটিকে নির্যাতন করতে থাকে।”
তিনি বলেন, “বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুইটির বিয়ের ঘটক নাজমুল মোবাইল ফোনে স্বজনদের তার মৃত্যুর খবর জানায়। ঘটনার পর নুরুল এবং তার বাবা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে সুইটির বাড়ির লোকজন নুরুলের বাড়িতে গিয়ে সুইটির মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।
“খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার এবং শ্বাশুড়ি জোবেদা খাতুনকে আটক করে।”
রিপন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জানিয়ে আকলিমা বলেন, “চার মাসের দুধের শিশুর সামনেই পাশেই সুইটিকে নির্যাতনের পর বাঁশ অথবা ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। শিশুটির শরীরেরও আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।”
এদিকে সুইটিকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় জনতা নুরুল ইসলামের দুই বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আগুনে দুটি বাড়ির আটটি কক্ষ এবং আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
সুইটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শ্রীপুরের মাওনা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে বেলা ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে উত্তেজিত জনতা আগুন দিয়ে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান মালামাল আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলে বলেন, “সুইটির দুই পা হাঁটুর নিচে থেঁতলানো ছিল। এছাড়া পা থেকে মাথা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
শ্রীপুর থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, “স্থানীয়দের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে গৃহবধূকে নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগে শাশুড়ি জুবেদা খাতুনকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”
