Published : 14 Apr 2026, 07:45 PM
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বিষাক্ত আগাছানাশক পান করে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছাত্রকে নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি ‘আত্মহত্যার’ পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে বিষপানের পর রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস।
মৃত ২৫ বছর বয়সী সাব্বির হোসেন একই উপজেলার দেবীপুর গ্রামের প্রয়াত কাফিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি উপজেলার তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নবিরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি মাদ্রাসার এক শিশুকে তার বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সালিশ বৈঠক করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সম্রাট বিশ্বাস বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়টির পর তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনেও চলে যান।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, কয়েকদিন থেকে সাব্বির হোসেন নওদাপাড়া গ্রামে তার নানার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এরমধ্যে সোমবার দুপুরের দিকে তিনি ঘাস পোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত বিষাক্ত কীটনাশক পান করেন তিনি।
গুরুতর অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে রেফার করেন। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে আত্মগ্লানি থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।