Published : 19 Apr 2026, 10:20 AM
পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’-র প্রশাসনিক ধীরগতি এবং রেসিডেন্ট কার্ড নবায়ন নিয়ে আইনি জটিলতায় দেশটির অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়ি সেবার প্রায় ৮ হাজার চালক কাজ হারিয়েছেন।
পর্তুগালের জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইকো’ এবং ‘পাবলিকো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা।
পর্তুগালের ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ টিভিডিই ড্রাইভারস’-এর দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৫ এপ্রিল সরকারের দেওয়া বিশেষ ‘এক্সটেনশন পিরিয়ড’ শেষ হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের সিস্টেম আপডেট করেছে।
যদিও পর্তুগাল সরকার এক বিশেষ ‘ডিক্রি ল’-এর মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ নথিপত্রের বৈধতা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু ‘উবার’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো এই অটোমেটিক এক্সটেনশন গ্রহণ করছে না।
উবার কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর ‘কমপ্লায়েন্স’ নীতিমালার কারণে তারা ফিজিক্যাল রেসিডেন্ট কার্ড বা মূল কার্ড ছাড়া চালকদের অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখতে পারছে না। অন্যদিকে, আরেক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘বোল্ট’ নথিপত্র নবায়নের প্রমাণ বা ‘অনলাইন রিনিউয়াল রিসিট’ গ্রহণ করে সাময়িক সুযোগ দিলেও তা অনেক ক্ষেত্রে কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা।
অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’-র সাম্প্রতিক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর সুফল পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ হারিয়ে লিসবনসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার চালক এখন বেকার।
লিসবনে ৪ বছর ধরে বসবাস করছেন বাংলাদেশি প্রবাসী রনি হোসাইন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বলছে আমাদের কাগজ বৈধ, কিন্তু উবার বলছে কার্ড ছাড়া কাজ করা যাবে না। আমি অনলাইনে রিনিউ আবেদন করে রিসিট পেলেও উবার আমার আইডি ব্লক করে দিয়েছে। আমাদের মতো সাধারণ প্রবাসীদের রুটি-রুজির পথ এখন বন্ধ।”
পর্তুগালের অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দেশটির পর্যটন ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম শুরু হতে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক গাড়িচালকের কর্মহীনতা পর্তুগালের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে।