Published : 24 Mar 2026, 09:58 AM
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৪ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
রোববার দেশটির নির্বাচনি নিয়মানুযায়ী দ্বিতীয় ধাপ তথা চূড়ান্ত পর্যায়ের ভোট নেওয়া শেষ হলে পৃথক শহর ও প্যানেল থেকে তারা এই জয় পান।
বিজয়ীদের মধ্যে গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে সাঁ-দনি শহর থেকে জয় নিশ্চিত করেন নাহিদুল ইসলাম। এরপর রোববারের দ্বিতীয় দফার ভোটে বিজয়ী হন আরও তিনজন- স্তা শহর থেকে কৌশিক রাব্বানী খান, ক্রেতেই শহর থেকে ফাহিম মোহাম্মদ এবং ইভ্রি-সুর-সেন থেকে জুবায়ের আহমেদ।
প্রথমবারের মতো ৪ বাংলাদেশি প্রার্থীর এই বিজয়ে স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে প্রবাসীদের এই সাফল্য বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য যেমন মর্যাদার, তেমনি এটি ফরাসি মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাঁ-দনির নাহিদুল ইসলাম বামপন্থি দল ‘লা ফ্রঁস আঁসুমিজ’ (এলএফআই) সমর্থিত প্যানেল থেকে জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে, কৌশিক রাব্বানী খান পুনরায় নির্বাচিত হয়ে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং অভিবাসীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে কমিউনিটিতে পরিচিত। গতবারের মতো এই নির্বাচনেও কৌশিক বর্তমান মেয়র আজেদিন তাইবির প্যানেল থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
২৫ বছর বয়সী তরুণ ফাহিম মোহাম্মদের সংগ্রাম ও সাফল্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। শৈশবে ফ্রান্সে আসার পর একসময় অনিয়মিত অবস্থায় থাকলেও দাবায় সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। সেই সূত্রে বৈধতা পেয়ে বর্তমানে তিনি একজন ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং এবার ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএস) প্যানেল থেকে ক্রেতেই শহরে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া ইভ্রি-সুর-সেন শহর থেকে প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার জুবায়ের আহমেদ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ফিলিপ বয়ুসু নেতৃত্বাধীন ‘ফ্রঁ পপুলেয়ার’ দলের প্যানেল থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
এবারের নির্বাচনে প্যারিস ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন ৭ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। ভোটারদের মন জয় করতে তারা তুলে ধরেন নানা প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ফ্রান্সের সামগ্রিক নির্বাচনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজধানী প্যারিসে বাম জোটের প্রার্থী এমানুয়েল গ্রেগোয়া ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিদা দাতি পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। লিয়ঁ শহরে গ্রেগরি দুশে এবং মার্সেইতে বনুয়া পায়ো পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
নঁত ও রেন শহরেও বামপন্থি প্রার্থীরা তাদের জয় ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে, তুলুজ ও লিমোজ শহরে ডানপন্থিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় পর বেজঁসোঁ শহরটি বামদের হাত থেকে দখল করেছে।
কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) কিছু শহরে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও নিস শহরে এরিক সিওত্তির নেতৃত্বে সাফল্য পেয়েছে। অতি বাম দল এলএফআই রুবেই শহরে জয় পেলেও সব জায়গায় তাদের অগ্রযাত্রা সমানভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছেন, যা ২০২০ সালের তুলনায় বেশি। ফ্রান্সের পৌরসভা নির্বাচনে সরাসরি কাউন্সিলর নির্বাচন করা হয় না; বরং ভোটাররা মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের পক্ষে ভোট দেন। প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হার অনুযায়ী সেই তালিকা থেকে কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত কাউন্সিলররাই নিজেদের মধ্য থেকে মেয়র নির্বাচন করেন।