Published : 17 Jun 2026, 11:53 AM
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারফ্যাক্সে বাংলাদেশি মালিকানায় পরিচালিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডব্লিউইউএসটি) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত এ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি থেকে ১৮৩ জন এবং স্কুল অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে ১০৭ জনসহ মোট ২৯০ জন শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে স্নাতক অর্জনকারী এক শিক্ষার্থীর গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপে লেখা ‘মা, আমি পেরেছি’ বাক্যটি উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ছিলেন টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক খালিদ এইচ. আরার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান আবু বকর হানিপ তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এবং শেখার মানসিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ যুগে ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিনিয়ত বিকশিত হওয়া জরুরি।” একইসঙ্গে তিনি নবীন গ্র্যাজুয়েটদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওয়াইজ এক্সিলারেটর’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান।

খালিদ আরার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের মধ্যেও মানবিক মূল্যবোধ, সংযোগ এবং জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সামর্থ্য চিনে অন্যের জন্য সুযোগ সৃষ্টির পরামর্শ দেন এবং নিজের জীবনের সংগ্রামের উদাহরণ টেনে প্রতিকূলতা মোকাবিলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ মেনন খান, ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম, উদ্যোক্তা রফিক হাওলাদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ফারহানা হানিপ। তারা শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, মানবিক মূল্যবোধ ও পেশাগত উৎকর্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ভ্যালেডিক্টোরিয়ান রিথিন সাইন মানাপতি, যিনি ডব্লিউইউএসটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। এছাড়া এমবিএ গ্র্যাজুয়েট বিলগেন আতালেই এবং বিএসবিএ গ্র্যাজুয়েট মাহা সাজিদ তাদের শিক্ষা জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হাসান কে. বার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং প্রথাগতভাবে গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ উড়ানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।