১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথম সন্তানের মুখ দেখা হলো না ইতালি-প্রবাসী শাকিলের

মৃত্যুর একদিন পরই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে তার প্রথম সন্তান।

প্রথম সন্তানের মুখ দেখা হলো না ইতালি-প্রবাসী শাকিলের
শাকিল হোসাইন (২৬) ও তার কর্মস্থল বিনোদন পার্ক, ছবি: আভেল্লিনো টুডে।

বিডিনিউজ২৪

সাইফুল ইসলাম, ইতালি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jun 2026, 11:25 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

জীবিকার তাগিদে বছরখানেক আগে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাংলাদেশি শাকিল হোসাইন (২৬)। অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের নতুন অতিথির। কিন্তু প্রথম সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না তার। 

কর্মস্থলে মাথায় আঘাত পেয়ে পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এই প্রবাসী যুবক। মৃত্যুর একদিন পরই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে তার প্রথম কন্যাসন্তান।

রোববার ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় আভেল্লিনো জেলার লিওনি শহরে একটি অস্থায়ী বিনোদন পার্কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব আসিফ আনাম সিদ্দিকী এ ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ওইদিন পার্কে কাজ করছিলেন শাকিল। সেখানে একটি বড় দোলনা-রাইড স্থাপনের পর সেটির কারিগরি পরীক্ষা চলছিল। এসময় একটি দোলনা খুলে এসে শাকিলের মাথায় আঘাত করে। 

আহত শাকিলকে হেলিকপ্টারে করে আভেল্লিনোর মসকাতি হাসপাতালে নিয়ে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। টানা পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

আভেল্লিনো শহরের মেয়র ইউরি জনিও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “একজন প্রবাসী যুবক তার পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এখানে এসে প্রাণ হারালেন, যা আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। যে সন্তানের জন্য তার এই পরিশ্রম, তাকে দেখার সুযোগটুকুও তিনি পেলেন না।”

স্থানীয় গির্জার পুরোহিত ও সাধারণ নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে, ইতালির বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে এ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট রাইড ও দুর্ঘটনাস্থলটি জব্দ করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দূতাবাসের প্রথম সচিব আসিফ আনাম সিদ্দিকী জানান, শাকিলের লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।