Published : 26 Jan 2026, 05:28 PM
মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলা ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ (এমএনইউ)।
পর্যটন খাতের বাস্তব চাহিদা এবং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
রোববার মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ নজমুল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইশাথ শেহনাজ আদাম।
বৈঠকে এমএনইউ-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও অ্যাকাডেমিক বিভাগের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে এমএনইউ-এর আগ্রহ উঠে আসে।
এসময় হাই কমিশনার মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম এমএনইউ ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চলমান যোগাযোগের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
উপাচার্য আইশাথ শেহনাজ আদাম জানান, বাংলাদেশ থেকে স্বল্পমেয়াদি অতিথি শিক্ষক আমন্ত্রণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও যৌথ গবেষণা কার্যক্রমে এমএনইউ আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, “এমএনইউ-এর আওতায় ২১টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় যৌথ সেমিনার ও সম্মেলনের বড় সুযোগ রয়েছে।”
বৈঠকে উপাচার্য মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এমএনইউ পরিচালিত গবেষণার কথাও উল্লেখ করেন। এসব গবেষণায় সেবা বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতনতার ঘাটতি উঠে এসেছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।
পর্যটন খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় এমএনইউ-তে বাংলা ভাষা কোর্স চালুর প্রস্তাব দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, “বর্তমানে এমএনইউ-তে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা কর্মরত আছেন এবং ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতেও বিশ্ববিদ্যালয় আগ্রহী।”
প্রত্যুত্তরে হাই কমিশনার মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম এমএনইউ-এর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বাংলাদেশ হাই কমিশন সহযোগিতা দেবে।” ভবিষ্যতে যৌথ সেমিনার, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।