Published : 21 Mar 2026, 12:19 AM
দেড় দশক ধরে মালয়েশিয়াতে আছেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর শিকলবাহার এলাকার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম; প্রতিবছর ঈদের সময় কেটেছে তার প্রবাসেই।
এবারের রোজার ঈদও কাটছে তার মালয়েশিয়াতে। পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন খারাপ লাগলেও চাইলেই ঈদের সময়ে তার দেশে ফেরার সুযোগ নেই।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আরিফ বলেন, “পরিবার ছাড়া বিদেশে ঈদ করা কঠিন কষ্টের। কী আর করা, প্রবাসীরা চাইলেই তো আর দেশে ঈদ করা যায় না। গত এক বছর আমার ভিসা নেই। চাইলেই দেশে যাওয়া সম্ভব না।”
তিনি বলেন, “ঈদের দিন প্রবাসী বন্ধুদের নিয়ে সময় চলে যাবে কোনোমতে। পরের দুই দিন টাইমস স্কয়ারে পার্টটাইম কাজ করব।”

মালয়েশিয়ায় এবারের ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শনিবার। প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে ঈদ উদযাপনে প্রস্তুতিও সেরেছেন। পরিবারের সদস্যরা দেশে থাকলেও প্রবাসে পরিচিতজন ও বন্ধুদের সঙ্গেই হবে তাদের ঈদ উদযাপন।
ঢাকা ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার হারুনুর রশিদ শাহীন ‘কলিং ভিসায়’ মালয়েশিয়ায় আসেন বছর তিনেক আগে। আগে একটি কারখানায় কাজ করলেও এখন বেকার।
প্রবাসে ঈদ উদযাপনের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাবা মা সঙ্গে নেই। তাদের সঙ্গে ঈদ করতে পারতেছি না। বাবা মায়ের সঙ্গে ঈদ করেছি দীর্ঘ ২৬ বছর। তিন বছর ধরে তাদের সাথে ঈদ করতে পারছি না। কষ্ট লাগে ভাই।”

কুমিল্লার মুরাদনগর হিরাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আতিক মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর প্রদেশে একটি গাড়ির কোম্পানিতে কাজ করেন।
তার ভাষ্য, “পরিবার ছাড়া ঈদ একটা ব্যর্থ জীবন। ঈদের সময়গুলো যেন কাটে না। চার দিন ছুটি বন্ধুদের নিয়ে ঘুরেফিরে কাটিয়ে দিচ্ছি। পরিবারের সবার কথা মনে পরে। তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে না পারা নিজে ব্যর্থ মনে হয়।”
মালয়েশিয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের দরিকান্দি গ্রামের আতিক হাসান বলেন, “বাবা সৌদি থাকেন। বাড়িতে মা, ছোট বোন ও দাদি আছেন। তাদের ছাড়া ঈদ করতে খুব খারাপ লাগে। ওদের কথা মনে পড়লে খারাপ লাগে।”

গাজিপুর শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা গ্রামের জহিরুল ইসলাম কাজ করেন মালয়েশিয়ার বুকিত জলিল এলাকায়। গত কয়েক বছর বিদেশেই ঈদ উদযাপন করেছেন।
তার কথায়, “প্রবাসীদের দেশ আর বিদেশ কী, যখন যেখানে আছি সেখানেই ঈদ।”

কুয়ালালামপুরের কুচায়লামায় গাড়ি পলিশের কাজ করেন যশোরের শার্শা উপজেলার মাজহারুল ইসলাম। ১৪ বছর তার কেটেছে মালয়েশিয়াতেই।
ঈদের আগের দিন হাংতুয়ায় মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা সারতে এসেছিলেন তিনি। প্রবাসে ঈদ অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, “প্রবাসে ঈদ করতেছি, এতে খারাপ লাগার কিছু নেই। আসলে খারাপ লাগাটা নিজের ওপর নির্ভর করে।
“প্রবাসে ঈদ করতেছি, এটা খারাপ লাগালে খারাপ, আর খারাপ না লাগালে খারাপ না।”

যশোর মনিরামপুর উপজেলা পিয়াল হাসান মালয়েশিয়ায় আসেন ৩ বছর আগে। কাজ করেন সেতাপাকে একটি বাজারে মুরগির দোকানে। তার বাবাও আছেন মালয়েশিয়াতে, ২০ বছর ধরে।
পিয়াল বলেন, “আব্বুর সঙ্গে থাকি, তাই আমার তেমন খারাপ লাগে না। মাঝে একবার দেশে গিয়ে ঘুরে এসেছিলাম। অবশ্য তা ঈদে নয়।”
টাংগাইল বাসাইল উপজেলার কাউলজানি গ্রামের মোহাম্মদ লিটনের মালয়েশিয়া কেটেছে ১০ বছর। ঝিনাইদহ সদরের ধনঞ্জয়পুরের রাসেল হোসাইন আছেন আড়াই বছর ধরে। তারা দুজনেই কাজ করেন পিয়াল হাসানের মত সেতাপাক কাঁচাবাজারে।
তারা বলছেন, ঈদের ছুটির তিন দিন বন্ধুদের নিয়ে আনন্দে কাটিয়ে দেবেন।
পাবনা আতাইকুলা থানার সাড়দিয়ার গ্রামের মোহাম্মদ হাসান আলী কাজ করছেন কুয়ালালামপুরের পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে। তিনি বলেন, “দেশে ঈদের আনন্দ একটু বেশি হয়, এখানে কম হয়। তারপরও খারাপ না, আলহামদুলিল্লাহ।”

হাসান মালয়েশিয়ায় তার মামার সঙ্গে থাকেন। বাবা নেই, মা থাকেন দেশে মামার বাড়িতেই। নিয়মিত মাকে টাকা পাঠান।
প্রবাস জীবন নিয়ে তিনি বলেন, “যেমন আছি, ভালোই আছি।”