ঋণ করে গিয়েছিলেন মালদ্বীপ, ঘুমের মধ্যেই প্রাণ গেল প্রবাসীর
প্রথম তিন মাস বৈধভাবে কাজ করলেও এরপর থেকেই কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তার।
সংসারের অভাব মেটাতে ঋণ করে দেড় বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৫৪ বছর বয়সি আবদুল জলিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ।
শনিবার রাজধানী মালের এক ভাড়া বাসায় ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মারা গেছেন এ প্রবাসী বাংলাদেশি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মালেতে বাংলাদেশ হাই কমিশন।
আবদুল জলিলের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে, পিতার নাম আব্দুল গাফুর।
পরিবারের সুখের আশায় ভিটেমাটি ছেড়ে প্রবাসে গেলেও তার দিনগুলো মোটেই সহজ ছিল না। মালদ্বীপে আসার প্রথম তিন মাস বৈধভাবে কাজ করলেও এরপর থেকেই কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
জলিলের চাচাতো শ্যালক আরেক প্রবাসী মো. জাকির বলেন, “বৈধতা হারানোর পর তাকে প্রায়ই বেকার বসে থাকতে হতো। একদিকে দেশে রেখে আসা বড় অঙ্কের ঋণের চাপ, অন্যদিকে প্রবাসে কাজের অনিশ্চয়তা—এই দুই চিন্তায় দিনরাত মানসিকভাবে ভেঙে পড়তেন তিনি।”
অন্যান্য দিনের মতোই ঘটনার রাতে খাবার শেষ করে ঘুমোতে যান জলিল। মাঝরাতের দিকে তার রুমমেট এসে তাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
জলিলের ভাইরা ভাই আবদুর রহমান জানান, তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা করুণ। দেশে তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাই কমিশন জানিয়েছে, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
