Published : 27 May 2026, 01:10 AM
কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নাফি হোসাইন।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এ ম্যারাথনে তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করেন।
পেশাগতভাবে প্রকৌশলী হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাতৃভূমির পরিচয় তুলে ধরার এ প্রচেষ্টা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
টরন্টো ম্যারাথন কানাডার অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ দৌড় প্রতিযোগিতা। ১৯৭৭ সালে ‘টরন্টো মেয়র্স কাপ’ নামে এ আসরের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ম্যারাথন কোর্স হিসেবে স্বীকৃত।
প্রতি বছর বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশ থেকে হাজারও দৌড়বিদ এতে অংশ নেন। অন্টারিও ভিত্তিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘রানিং ফার্স্ট লিমিটেড’ আয়োজনটি পরিচালনা করে।
৪২ দশমিক ২ কিলোমিটারের এ দীর্ঘ পথটি টরন্টো শহরের উত্তর প্রান্তের নর্থ ইয়র্ক সিটি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে নান্দনিক ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলো পেরিয়ে টরন্টো এক্সিবিশন সেন্টারে গিয়ে শেষ হয়।
প্রবাসী আওলাদ হোসাইন ও আজমেরী সুলতানা পান্না দম্পতির সন্তান নাফি হোসাইন ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কয়েক বছর ধরে এ ম্যারাথনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
নাফি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার কথা ভাবতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়ে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করার সক্ষমতা একদিনে আসেনি। অল্প অল্প করে অনুশীলন করেছি, অনেক কষ্ট করেছি এ লক্ষ্য অর্জনে।”
অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী কানাডার জার্সি পরলেও আপনি বাংলাদেশের জার্সি বেছে নিলেন কেন? এ প্রশ্নের জবাবে নাফি বলেন, “আমি আমার শেকড়ের সন্ধানে আনন্দ পাই। সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। টরন্টো ম্যারাথন আমাকে সেই ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে।”
নাফি জানান, ওইদিন প্রতিযোগিতায় তার লক্ষ্য ছিল ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে দৌড় শেষ করা, কিন্তু তিনি মাত্র ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন।
টানা দৌড়ানোর কোনো পর্যায়ে কি মনে হয়েছে যে এটি অসম্ভব? এর উত্তরে নাফি বলেন, “অবশ্যই মনে হয়েছে। বিশেষ করে শেষের ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দৌড়াতে খুব কষ্ট হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় এবং লক্ষ্যপূরণে অবিচল থাকার কারণেই শেষ পর্যন্ত এত বড় অর্জন সম্ভব হয়েছে।”