ছাত্রলীগ দখলদারত্বে বিশ্বাসী নয়: কাদের

“নীতি ও আদর্শ বিবর্জিত ধারার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নিরন্তর সংগ্রাম জারি রেখেছে”, বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 02:07 PM
Updated : 1 April 2024, 02:07 PM

ছাত্রলীগ সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র ও নীতি-আদর্শ মেনে পরিচালিত ছাত্র সংগঠন দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “তারা দখলদারত্বে বিশ্বাসী নয়।”

সোমবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে কাদের বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের অবদান অনস্বীকার্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছিল। ছাত্রলীগ সর্বদা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে। ছাত্রলীগ সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র ও নীতি-আদর্শ মেনে পরিচালিত ছাত্র সংগঠন।”

‘সামরিক স্বৈরাচার’ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দখলদারিত্ব তৈরি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান নিজের অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ছাত্রদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

“ক্ষমতা ও অর্থের প্রলোভনে মোহাবিষ্টের মাধ্যমে ছাত্রনেতাদের আদর্শবিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট করে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করা হয়। নীতি-আদর্শকে পাশ কাটিয়ে বৈষয়িক চিন্তা ও বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা হয় তাদের। এর ধারাবাহিকতায় দিনে দিনে ছাত্ররাজনীতিতে একটি কলুষিত ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়।”

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বলেন, “জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রচলন হয়। এর ছোঁয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়তে থাকে এবং তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ব্যাহত করে।”

এই নীতি ও আদর্শ বিবর্জিত ধারার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ‘নিরন্তর সংগ্রাম জারি রেখেছে’ বলেও দাবি করেন কাদের।

বিএনপি নিয়ে ‘আফসোস’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ‘নতুন ব্য়ান’ নিয়েও কথা প্রতিক্রিয়া জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “আমাদের আফসোস হয়। বিএনপি নেতারা বোঝে না যে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচারের ধারা অব্যাহত রাখলে তারা জনগণ থেকে আরও দূরে সরে যাবে।

“তারা ক্ষমতায় এসে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগবিরোধী বয়ান তৈরির মধ্য দিয়ে দেশবিরোধী রাজনীতির ধারা সৃষ্টি করেছে এবং তা পরিপুষ্ট করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

আরো পড়ুন: স্বাধীনতা ‘ঘোষণার’ নতুন বয়ান হাফিজের

গত ৩০ মার্চ রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাবি করেন,  তার দাবি ২৭ মার্চের আগেও জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর সেটি ছিল ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে।

সেদিন তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সামনে সৈনিকদেরকে একত্রিত করে জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেই প্রথম ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেন।”

হাফিজের দাবি, “জিয়াউর রহমান সেদিন বলেছিলেন, ‘আজ থেকে আমরা স্বাধীন, আমার বাংলাদেশকে আমি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করছি এবং এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি’।”

‘মনগড়া বক্তব্য’

বিএনপির নেতাকর্মীদের অত্যাচার নির্যাতন নিয়ে যে অভিযোগ দলের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে তাকে ‘মনগড়া মিথ্যা ও বানোয়াট’ আখ্যা দেন আওয়ামী লীগ নেতা।

তিনি বলেন, “বিএনপি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথে হেঁটেছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এখন তো তাদের নেতাকর্মীরা একের পর এক মুক্তি পাচ্ছে। অথচ তাদের মুখে অত্যাচার-নির্যাতনের তথাকথিত বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে এটা তারা চিরস্থায়ী পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

“সরকার কোনো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেনি। বরং নির্বাচন বানচাল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি সন্ত্রাস ও সহিংসতা সৃষ্টির মাধ্যমে যে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, সরকার তা থেকে জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য অভয়ের পরিবেশ সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর।”