ইভিএম নিয়ে কোন দল কী বলে গেছে, প্রকাশ করে দেব: আলমগীর

সংলাপ শেষে নির্বাচন কমিশন অধিকাংশ দলের কাছ থেকে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত পাওয়ার দাবি করলে তা নিয়ে প্রশ্ন ‍ওঠে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Sept 2022, 05:37 PM
Updated : 18 Sept 2022, 05:37 PM

সংলাপে ইভিএমের পক্ষে-বিপক্ষে কোন রাজনৈতিক দল কোন অবস্থানে ছিলেন, ‘ডকুমেন্ট’ প্রকাশের পর তা স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

সংলাপ শেষে নির্বাচন কমিশন অধিকাংশ দলের কাছ থেকে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত পাওয়ার দাবি করলে তা নিয়ে প্রশ্ন ‍ওঠে।

মতামত পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আলমীর রোববার সাংবাদিকদের বলেন, তারা সংলাপের ভিডিও ও নথিপত্র প্রকাশ করলেই বিষয়টি ‘স্পষ্ট’ হয়ে যাবে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বুধবার রোডম্যাপ প্রকাশ করে ইসি। তাতে বলা হয়, সংলাপে অংশগ্রহণকারী ২৯টি দলের মধ্যে ইভিএমের পক্ষে মত দিয়েছে ১৭টি রাজনৈতিক দল। বিপক্ষে মত দিয়েছে ১২টি দল।

ইভিএমের বিপক্ষে বললেও রোডম্যাপে পক্ষে দেখানো হয়েছে বলে কয়েকটি দল এরই মধ্যে অভিযোগ তুললেও আলমগীরের দাবি, ইসির রোডম্যাপে প্রকাশিত তথ্যই ‘সঠিক’।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মতামত পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক তো নয়ই। কারণ, পুঙ্খাপুঙ্খরূপে একাধিকবার যাচাই করেছি। যেটায় যিনি বিপক্ষে বলেছেন, তাকে আমরা পক্ষে লিখিনি। যারা সরাসরি পক্ষে বলেছেন, তাদেরটাও বিপক্ষে নিইনি।”

ইসির রোডম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ইভিএমের বিপক্ষে মত দিয়েছে ৬টি দল; শর্তসাপেক্ষে ইভিএমের পক্ষে ১১টি রাজনৈতিক দল মত দিয়েছে।

ইসিতে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের মধ্যে ইভিএম নিয়ে সংলাপের সময় নয়টি দল সংলাপে যায়নি। বিএনপিসহ এই দলগুলো ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছে। আবার সার্বিক বিষয় নিয়ে পরের সংলাপ সাতটি দল বর্জন করে।

নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, “কিছু কিছু রাজনৈতিক দল আলোচনায় যা লিখে নিয়ে এসেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানে ছিল। আর কিছু দল ছিল যারা লিখে যা নিয়ে এসেছিল, আলোচনায় ভিন্ন মত দিয়েছিল। আমরা সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে করেছি; আমরা তো লিখিত মতামত চাইনি।”

মতামত ভিন্নভাবে উপস্থাপনে রাজনৈতিক দলে অবিশ্বাস তৈরি করবে কি না- এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হয়ত এটা সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কিন্তু এগুলোর যেহেতু আমাদের কাছে ডকুমেন্ট রয়েছে, ডকুমেন্টগুলো প্রকাশ করে দেব।

“ডকুমেন্ট প্রকাশ করলেই কে কী বলেছে, সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আমরা পর্যালোচনা করিনি, করব। এটা নিয়ে আমাদের ম্যাটেরিয়াল জোগাড় করলাম, এর পরে আমরা প্রকাশ করব। কে কী বলেছে, প্রয়োজনে ভিডিওটাই দিয়ে দিলাম।”

শর্তসাপেক্ষে ইভিএমের কথা যারা বলেছেন, তাদের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইসি আলমগীর।

যাদের শর্ত ইসি পূরণ করতে পারছে, তাদেরকে ইভিএমের পক্ষে রাখা হয়েছে; আর যাদের শর্ত ইসি পালন করতে পারবে না, সেসব দলকে ইভিএমের বিপক্ষে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

“যেমন ভিভিপ্যাট-বিশেজ্ঞদের সঙ্গে বসেছি। যারা ভিভিপ্যাটের কথা বলেছেন, তাদেরকে আমরা বিপক্ষে করেছি।”

ভিভিপ্যাট বা ‘ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেইলিং’ হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র, যেটি ইভিএমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর ওই যন্ত্র থেকে একটি স্লিপ বেরিয়ে সাত সেকেন্ড পর সিল করা বাক্সে জমা পড়ে। স্বচ্ছ একটি কাচের ভিতর দিয়ে ওই সাত সেকেন্ড স্লিপটি ভোটদাতা দেখতে পারেন। ভোটযন্ত্রে কারচুপি বা তা ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা সহজেই ধরার এই যন্ত্র প্রথম ব্যবহৃত হয় ২০০১ সালে, নিউ ইয়র্কে। প্রতিবেশী ভারতেও ২০১৪ সাল থেকে এই পদ্ধতির প্রচলন হয়েছে। 

Also Read: ইভিএমের বিরোধিতার কারণ ‘মনস্তাত্ত্বিক’: ইসি

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক