০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময় সফরসঙ্গী হন না: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে আকস্মিকভাবেই বাদ পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময় সফরসঙ্গী হন না: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Sep 2022, 07:42 PM

Updated : 06 Sep 2022, 07:42 PM

ভারত সফরে এ কে আব্দুল মোমেনের না থাকার একটি ব্যাখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, সব সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশে যান, তখন সব সময় সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সফরসঙ্গী হন না।”

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে আকস্মিকভাবেই বাদ পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার আগের দিন তিনি সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।

ভারতে সাম্প্রতিক এক সফরে মোমেনের বক্তব্য নিয়ে দেশে সমালোচনা উঠেছিল। সেটাই তার সফরে বাদ পড়ার কারণ বলে আলোচনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মোমেন অসুস্থ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুটা অসুস্থ, সে কারণেই তিনি যাননি।”

হঠাৎ অসুস্থতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবও দিয়ে তিনি বলেন, “প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে উনি গতকাল অফিসে গেলেন কীভাবে? কিছুটা অসুস্থ থাকলে অফিস করা যায়। কিন্তু এরকম হাই লেভেল ভিজিট করা সম্ভব নয়।”

বিএনপির সমালোচনা

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ভারত সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার জবাবে বলেন, “ভারতের কাছ থেকে যা কিছু আদায়, সেটি আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ভারত সফরে প্রতিবারই প্রধানমন্ত্রী ‘শুধু দিয়ে এসেছেন’, কিন্তু ‘নিয়ে আসেননি’ কিছু।

তার জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, “সেটি বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার বেলায় প্রযোজ্য। আপনাদের মনে আছে, বেগম খালেদা জিয়া ভারত সফর থেকে আসার পর তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে কী কথা হয়েছে? তখন বেগম জিয়া বলেছেন, আমি তো ওটা ভুলেই গিয়েছিলাম।

“যাদের নেত্রী ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলতে ভুলে যায়, তারাই সবসময় ভারতকে সব দিয়েছে, কিছু আদায় করতে পারে নাই।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার ভারত থেকে অনেক কিছু আদায় করেছে। প্রধানমন্ত্রী পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার প্রথমবার তামাক জাতীয়সহ ২০টি পণ্য বাদে সকল পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা আদায় করেছেন।

“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে যে মৈত্রী চুক্তি করেছিলেন, সেটির অধীনেই কিন্তু আমাদের ছিটমহলগুলো আমাদেরকে হস্তান্তর করার কথা ছিল।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারই ভারতের সাথে আলাপ-আলোচনা করে বহু দশক পরে সেটি আদায় করেছে, ছিটমহলগুলো আমাদের অধিকারে এসেছে। ভারতের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে আমরা সমুদ্রসীমা জয়লাভ করেছি।”

সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে- বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “অগণতান্ত্রিকভাবে বন্দুকের নল থেকে বিএনপির উৎপত্তি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে বন্দুকের নল উঁচিয়ে মানুষ হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দল প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই দল যখন গণতন্ত্রের কথা বলে তখন মানুষ হাসে, গাধাও হাসে।”