১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ‘১০টা আসনও’ পাবে না আওয়ামী লীগ: ফখরুল

শুধু বিএনপি নয়, ৩৬টি দল যুগপৎভাবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সরকারের পদত্যাগ চায়, বলেন তিনি।

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ‘১০টা আসনও’ পাবে না আওয়ামী লীগ: ফখরুল

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার বিকালে ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2023, 09:01 PM

Updated : 22 Jul 2023, 10:45 PM

নির্দলীয় সরকার ছাড়া এবার দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে আবারও জোরালোভাবে বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার বিকালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিন সংগঠনের ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলে অবিলম্বে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।

জনগণকে ‘ভয় দেখিয়ে’ নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে সরকার কৌশল করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আবার তারা ওই রাতের অন্ধাকার না, এবার তারা নতুন নতুন কৌশল করেছে। সব ডিসি-এসপি তারা তাদের পছন্দমত নিয়োগ দিচ্ছে। উদ্দেশ্য কি? এরা দিনের আলোয় তারা কৌশল করে, সিল মেরে আবার নিয়ে যাবে।

“কিন্তু বন্ধুগণ-‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান- এবার আর সেটা হবে না। এবার এই দেশে কোনো নির্বাচন হবে না নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া।”

শুধু বিএনপি নয়, ৩৬টি দল যুগপৎভাবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সেজন্য কী চাই? অবিলম্বে এই শেখ হাসিনার সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।’’

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি ঢাকা, লক্ষ্ণীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের কঠোর সমালোচনা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভয় পায়, যা অবাধ ও সুষ্ঠু হলে ‘১০টা আসনও’ পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Image

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার বিকালে ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করুন, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং নতুন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুনভাবে নির্বাচন করুন।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘আওয়ামী লীগের দাসানুদাস’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল সরকারের নানান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা মারতে সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা ও সদিচ্ছার অভাবের কথাও বলেন।

তার অভিযোগ, ‘‘মশা মারবে কোথায়? মশা মারার জন্য যে ব্যবস্থা নিতে হবে- তারা তো ব্যস্ত হয়ে আছে কীভাবে টাকা পাচার করবে বিদেশে।”

Image

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ নানা সাজে যোগ দেন দলটির নেতাকর্মীরা

শনিবার সাড়ে তিনটায় জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে ‘তারুণ্যে’র এ সমাবেশ শুরু হয়। শেষ হয় পৌণে ৬টায়।

দুপুরের আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ স্থলে জড়ো হতে শুরু করেন এই তিন সংগঠনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টার আগেই সমাবেশ স্থল ভরে যায়। মঞ্চেও ভিড় বাড়তে থাকে নেতাদের।

সমাবেশের প্রথম পর্বে ছিল তরুণ শিল্পীদের গণসংগীত পরিবেশনা।

মঞ্চে এ অনুষ্ঠান চলাকালে এক পর্যায়ে নেতাদের ‘ভিড় সামলাতে না’ পেরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মঞ্চ। ২টার দিকে সমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরুর আগের এ ঘটনায় এক সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের একজনের পা ভেঙে গেছে, মচকে গেছে আরেকজনের।

Image

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার তারুণ্যের সমাবেশের মঞ্চ ভেঙে পড়ে। তারপর সেই ভাঙা মঞ্চের ছবি তুলতে সাংবাদিকদের বাধা দেয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা

পরে ছোট একটা সাদা পিকআপ ভ্যান এনে অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়। তাতে কয়েকটি চেয়ার ও বক্তৃতার ডায়াস স্থাপন করা হয়। সেই পিকআপে চেয়ারে বসেন বিএনপি মহাসচিব। সেখান থেকেই বক্তৃতা করেন তিনি। সমাবেশে যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্ব করেন।

এর আগে এ তিন সংগঠনের প্রথম ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ হয়েছিল গত ১৪ জুন, চট্টগ্রামে। এরপর বগুড়া, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটে সমাবেশ হয়।

এদিন ঢাকার এ সমাবেশে যোগ দিতে সকাল থেকে ঢাকাসহ তা আশপাশের জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী আসতে থাকেন। তাদের অংশগ্রহণের পুরো উদ্যোন ভরে যায়। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিটিউশন, শাহবাগ ও মৎস্যভবনেরে সড়কেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন কর্মীরা।

ব্যাপক জনসমাগমের কারণে পুরো এলাকায় তীব্র যানজট দেখা যায়। এর প্রভাব পড়ে অন্যান্য সংযোগ সড়কসহ ঢাকার বড় এলাকাজুড়েই।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক সংখ্যাক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জলকামান, সাজোঁয়া যান, প্রিজন ভ্যানের গাড়িও দেখা গেছে সড়কের মোড়ে।

সমাবেশ স্থলে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত বিশাল রঙিন বেলুন ওড়ানো হয়। সোহরায়ার্দী উদ্যানের এ সমাবেশের মধ্য দিয়ে জুন মাসে শুরু ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ কর্মসূচি শেষ হল।

‘বেচারা হিরো আলম’

সমাবেশে ঢাকা ১৭ উপনির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এবার ভোটের কী আলামত? আমরা সেইদিন দেখলাম ঢাকা ১৭ উপনির্বাচনের আসনে। বেচারা হিরো আলম। বাচ্চা ছেলে। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। সে একটা আশা নিয়ে গিয়েছিল অন্তত তাকে ভোটটা করতে দেবে।

‘‘কিন্তু এটা যে আওয়ামী লীগ- এটা সে বুঝতে পারেনি, বেচারা।“

Image

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ নানা সাজে যোগ দেন দলটির নেতাকর্মীরা

সরকারের সমালোচনা করে এসময় তিনি দেশের মানুষের টাকা ‘বিদেশে পাচারের’ নানা ঘটনাও অভিযোগ আকারে তুলে ধরেন তিনি।

যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া সমাবেশে ‘গুম’ ও নিখোঁজ নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্য, ভোটার হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ভোট দিতে না পারা তরুণ-তরুণী এবং বর্তমান সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত ও চাকুরিবঞ্চিত কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

পুরানো খবর:

বিএনপির ‘এক দফা’: ঢাকায় মহাসমাবেশ বৃহস্পতিবার

পুরানো খবর:

ভেঙে পড়ল বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশে’র মঞ্চ