‘দল বানানোর কারসাজি’ দেখছেন রিজভী

“জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল কখনো অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভাগিয়ে নেয় না,” বলেন এই বিএনপি নেতা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2023, 03:26 PM
Updated : 24 Nov 2023, 03:26 PM

রাষ্ট্রীয় অর্থ ‘লোপাট করে’ সরকার নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, “বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো থেকে লোক ভাগানোর জন্য তিনি (শেখ হাসিনা) তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তারা সেই কাজটি করছে। একজন একজনকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে, নতুন দলের একেকটা অদ্ভুত অদ্ভুত নাম দিয়ে তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে এবং নমিনেশনে তাদেরকে জেতানো হবে বলে অথবা টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

“একদিকে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জনগণকে দমন করার জন্য যত ধরনের নিষ্ঠুর পদক্ষেপ আছে- সেগুলো তিনি গ্রহণ করছেন, অন্যদিকে চলছে রাষ্ট্রীয় টাকা লোপাট করে দলছুটদের নিয়ে দল বানানোর কারসাজি।”

শুক্রবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের পর শীর্ষ নেতাদের অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি আছেন, বাকিরা আছেন আত্মগোপনে।  রিজভীও আত্মগোপনে থেকে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছেন।

তিনি বলেন, “জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল কখনো অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভাগিয়ে নেয় না। এই কাজটা করে গ্রাম্য মোড়ল, গ্রাম টাউট, বাজে লোক- তারা এসব কাজ করে… অন্য মানুষের বাড়ি থেকে লোক ভাগিয়ে নেয়… সেই কাজ শেখ হাসিনা এখন করছেন।

“দলের মধ্যে নানাভাবেই সুবিধাবাদীরা ঢুকে পড়ে, উচ্ছিষ্টভোগীরা ঢুকে পড়ে… লোকগুলোকেই তারা পায়। এরশাদের সময়ে আমরা দেখেছি, এসব লোকগুলোকে নিয়ে এরশাদ দল গঠন করেছে, সরকার গঠন করেছে। শেখ হাসিনাও এখন ওই কায়দায় অনুকরণ করছে, অনুসরণ করছে।”

সম্প্রতি নিবন্ধন পাওয়া তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বা বিএনএম দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করেছে।

তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হুদা বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন, একাধিকবার মন্ত্রীও হন। পরে মতবিরোধে জড়িয়ে বহিষ্কৃত হন, গঠন করেন নিজের দল।

বিএনপির সাবেক দুই নেতা শমসের মবিন চৌধুরীকে চেয়ারম্যান ও তৈমুর আলম খন্দকারকে মহাসচিব রেখে ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন কমিটি করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করে দলটি।

অন্যদিকে বিএনপিরই সাবেক কয়েকজন নেতাকে সামনে রেখে গঠন করা হয়েছে বিএনএম। এর মধ্যে সোমবার বিএনপির সাবেক চার এমপিকে দলে ভিড়িয়ে আরও ‘বড় চমক’ এর ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

রিজভী বলেন, ‘‘সবসময় সর্বকালের এই স্বৈরাচারী- জাতির কাঁধের ওপর যখন চেপে বসে, তখন এই ধরনের প্রবণতাগুলোই দেখা দেয়… শেখ হাসিনাও সেটাই করছেন। এটা তো এক নির্লজ্জ ঘৃণ্য কাজ… এটা কোনো ভদ্রলোকে এই কাজ করতে পারে না।

“কারণ তার তো জনগণের কাছে যাওয়ার উপায় নাই, তিনি একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জিতবেন না, এই ‘জিতবেন না’র কারণে তিনি যত ধরনের গণবিরোধী কাজ, যত ধরনের দুর্বিনীত কাজ, যত ধরনের দুরাচারমূলক কাজ- সেই কাজগুলো তিনি এখন করছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে।”

‘র‌্যাবের ৪২৮টি কেন্দ্র কেন?’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি আমরা যে- র‌্যাবের জন্য ৪২৮টি কেন্দ্র বানানো হচ্ছে সারা দেশে। এদের কাজ কী? সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এভাবে নিয়োগ করা হয়, তাদেরকে দিয়ে সারাদেশে একেকটি কেন্দ্র বানানো হয়… সেখান থেকে তারা কী করবে? তারা করবে জনগণ যাতে কোনো ভাবে তাদের বিস্ফোরণ না ঘটে।

‘‘সামনে একতরফা নির্বাচনের যে মাস্টার প্ল্যান শেখ হাসিনা করেছেন, সেই মাস্টার প্ল্যানকে বাস্তবায়ন করার জন্য নানাভাবে নেতাকর্মীদের বেপরোয়াভাবে গ্রেপ্তার করছেন। যে গ্রেপ্তারি অভিযান চলছে বৈশাখী ঝড়ের মত, সেই অভিযানটা তারা অব্যাহত রাখবেন। সেই কারণেই আজকে র‌্যাবের ৪২৮টি কেন্দ্র করা হয়েছে সারা দেশে।”  

গাজীপুরের শ্রীপুরে নাশকতার মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সেই প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘‘একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসক তিনি। আজকে সকালে পেশাজীবীদের একটি অনুষ্ঠান শেষে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করছে র‌্যাব। তাকে গ্রেপ্তারের যে দৃশ্য এটাই হচ্ছে… বিষ্ময়কর। বাংলাদেশে এরা যদি আরও কিছুদিন টিকে, কোনো ভদ্রলোক বাংলাদেশে বাস করতে পারবে না।

“রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে র‌্যাবের গ্রেপ্তারের আলোকচিত্রটি দেখুন। একজন সিনিয়র চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের পর দুই র‌্যাব সদস্য দুই পাশে। আমার প্রশ্ন হল, তিনি একজন সুচিকিৎসক, সুচিকিৎসক আপনি তাকে গ্রেপ্তারের পর সন্মানের সাথে র‌্যাব ‍কার্যালয়ে বসিয়ে রাখতে পারতেন।”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “তার ছবি তুলছেন, মনে হয় যে ‍দুধর্ষ কোনো সন্ত্রাসী না কোনো দাগী চোর-ডাকাত! কী করে সন্মানিত মানুষের সন্মান হরণ করছে এই সরকার! আর যারা ক্যাসিনো গড়ে তুলেছেন, যারা একের পর এক টাকা লুট করেছে, নাম প্রকাশ হয়েছে … তারা এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমরা কোন দেশে বাস করছি! আমরা এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”