২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমেরিকার চেয়ে ‘সহজ’: তথ্যমন্ত্রী

জিডিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হচ্ছে না, জানালেন হাছান মাহমুদ।

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমেরিকার চেয়ে ‘সহজ’: তথ্যমন্ত্রী

ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Apr 2023, 08:23 PM

Updated : 06 Apr 2023, 09:05 PM

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি আবার জোরেশোরে উঠলেও এই আইনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, হাছান মাহমুদ বলেন, “এই আইন দেশের সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। আর আমাদের এ আইন আমেরিকার আইনের চেয়ে অনেক সহজ। আমেরিকায় ডিজিটাল অপরাধের জন্য ২০১৫ সালের আইনটি ২০২২ সালে সংশোধন করা হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ড।

“আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এত কারাদণ্ড নাই। আমেরিকার আইনে ডিজিটাল অপরাধে যদি কারও মৃত্যু হয়, সেক্ষেত্রে শাস্তি হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নও ২০২২ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তার নতুন আইন করেছে এবং প্রায় সব দেশেই এই আইন আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, কন্টিনেন্টাল ইউরোপের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও আমাদের চেয়ে কঠিন। সুতরাং এই আইন বাতিল করার প্রশ্নই আসে না।”

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

বাতিল না হলেও এই আইনে সাংবাদিকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার কথা বলেছেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, “এতে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সাংবাদিকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে অবশ্যই নজর দেওয়া প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরো কী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটি আইন মন্ত্রণালয় দেখছে, আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি।”

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের উদ্দেশে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, “অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের লেখনির ফলেই রাষ্ট্র এবং সমাজের পক্ষে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। সাংবাদিকরা সাহস নিয়ে কাজ করলে, আমি মনে করি, সমাজ উপকৃত হবে, রাষ্ট্র উপকৃত হবে।

“তবে সবসময় খেয়াল রাখাতে হবে, রিপোর্টিং করতে গিয়ে যেন কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। দেখা যায়, অনেক সময় রিপোর্ট হয়, আসলে লোকটা সেই ক্ষেত্রে অপরাধী নয়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ক্রাইম রিপোর্টারদের প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে।”

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বলেন, “অ্যামিবার আকার যেমন মাঝে মধ্যে বড় হয় আবার ছোট হয়, বিএনপির জোটও হচ্ছে সে রকম। অ্যামিবা যেমন নিজে ভাগ করে দুইটা হয়, আবার চারটা হয়, বিএনপির জোটও ঠিক সে রকম। দেখা গেলো, ২২ দলীয় জোট ছিলো, হলো ১২ দলীয় জোট আবার কয়দিন পরে শুনি তারা ৫৪ দলীয় জোট। এ জন্য তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব।”

তিনি বলেন, “বিএনপিতে ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম সবাই আছে। সবাইকে একত্রিত করে ঘোষণাপত্র দেওয়া তো কঠিন কাজ। বিএনপির মধ্যে আবার কয়েকটি ভাগ, চেয়ারপারসনের ধারা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের ধারা, মির্জা ফখরুল সাহেবের ধারা, সংস্কারপন্থীদের ধারা- সব ধারাকে এক করা, সেটাও কঠিন কাজ।”

ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্যরা এদিন তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন দেখা করতে গিয়েছিলেন।