২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন কাঠামোয় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিসিবির

নতুন কাঠামোয় তিন সংস্করণেই ছয় দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 11:48 PM

Updated : 20 Sep 2026, 11:48 PM

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন কাঠামোয় তিন সংস্করণেই ছয় দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

রোববার বিসিবির ভার্চুয়াল বোর্ডসভায় এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি। পাশাপাশি বোর্ডসভায় হওয়া অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলোও জানানো হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় একই টুর্নামেন্টের অধীনে প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি- তিন সংস্করণের আলাদা আলাদা আসর আয়োজন করা হবে। এই কাঠামোয় আগামী ডিসেম্বরে টি-টোয়েন্টি আসর দিয়ে টুর্নামেন্টটি শুরু করার পরিকল্পনা বিসিবির।

এই টুর্নামেন্টে ছয় দলের কোনোটিই বিসিবির অধীনে থাকবে না। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের চুক্তিতে দেশের স্বনামধন্য কর্পোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মালিকানা স্বত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

এছাড়া বোর্ডসভায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তিন লেনের অ্যাথলেটিক রানিং ট্র্যাক বসানোর প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। ক্রিকেটারদের অনুশীলন ও ফিটনেসের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে এই বোর্ডসভায়। বর্তমানে ক্রিকেটারদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে দুটি ড্রেসিং রুম। নতুন সিদ্ধান্তে আরও দুটি বিকল্প ড্রেসিংরুম তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের মাঠে প্রবেশের জায়গা ও লবি এলাকার প্রস্তাবিত আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজের অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড।

ঢাকার বাইরে ক্রিকেট সুবিধা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বোর্ডসভায়। এর অংশ হিসেবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। সবশেষ ২০০৬ সালে এই মাঠে আয়োজিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর থেকে শুধুমাত্র ঘরোয়া, ‘এ’ দল, এইচপি দল ও বয়সভিত্তিক দলের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এই মাঠ।

সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিপিএল আয়োজন নিয়ে টানপোড়েনের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। সেই প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে বোর্ডসভায়।

ফলে এখন থেকে পুরুষ ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচের জন্য দেড় লাখ টাকা, লিস্ট ‘এ’ ম্যাচের জন্য এক লাখ টাকা ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ৮০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন।

এছাড়া কাউন্টির আদলে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দলগুলোর জন্য দ্বিতীয় একাদশের টুর্নামেন্টের জন্য ম্যাচ ফি নির্ধারণ করেছে বিসিবি। এই ম্যাচের জন্য ক্রিকেটাররা ১৫ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন।

পাশাপাশি বেড়েছে অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা। আগে ১০ হাজার টাকা করে দৈনিক ভাতা পেতেন ক্রিকেটাররা। সেটি শতভাগ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে নারী ক্রিকেটারদের নতুন ম্যাচ ফি অনুমোদন করেছে বোর্ড। নতুন কাঠামোতে লম্বা দৈর্ঘ্যের ম্যাচের জন্য ৪০ হাজার টাকা, একদিনের ম্যাচের জন্য ৩০ হাজার টাকা ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন তারা।