Published : 14 Dec 2023, 01:05 AM
বাছাইয়ে টিকে যাওয়া যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে আপিল শুনানির চতুর্থ দিনে এসে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনে (এসে) আপিল শুনানিতে বাতিল হয়েছে বাবুলসহ মোট ৫৩ জনের মনোনয়নপত্র।
আর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আরও ৪৩ জন।
এছাড়াও শুনানি শুরুর পর গত তিন দিনে স্থগিত চারটি আপিলের সিদ্ধান্তও এসেছে এদিন। এর মধ্যে দুজন প্রার্থী বৈধ হয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন এবং দুইজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
এ নিয়ে চার দিনের শুনানিতে মোট ২১৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
বুধবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
সকাল ১০টা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে আপিল শুনানি শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
>> চতুর্থ দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মোট ৪৫ জন।
>> বাতিল হয়েছে ৫৩ জনের মনোনয়নপত্র।
>> স্থগিত রাখা হয়েছে ২টি।
এদিন যশোর-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী এনামুল হক বাবুল এবং সুনামগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমনের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আপিলের শুনানিতে সেগুলো অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
ঋণ খেলাপির দায়ে দুইজনেরই মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ দুটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
যশোর-৪ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রার্থী সুকৃতি কুমার মণ্ডল তার আসনের নৌকার প্রার্থী বাবুলের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিএনএম প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমনের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন।
এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা হারানো কুমিল্লা-৯ আসনের জাসদের প্রার্থী মনিরুল আনোয়ার ইসিতে আপিল করেছিলেন। এ দিনের শুনানিতে তার বিষয়েও পরে সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।
একই সঙ্গে ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছে ইসি।
শামীমের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে ইসিতে আপিল করেছিলেন তার আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী এ কে আজাদ। স্বতন্ত্র এ প্রার্থীর বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে। তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। শামীম, আজাদ ও মনিরুলের বিষয়ে ১৫ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।
ঋণ খেলাপি ও ট্যাক্স পরিশোধ না করার অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিকল্পধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র আপিলের শুনানিতেও বাতিল করা হয়েছে। নোয়াখালী-৪ আসনেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
এদিকে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে করা আপিল নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে চুন্নুর প্রার্থিতা বৈধই থাকল। আপিলটি করেছিলেন একই আসনের নৌকার প্রার্থী নসিরুল ইসলাম খান।
স্বতন্ত্রে বৈধ হলেন যারা
ঢাকা-১৪ আসনের মোহাম্মদ এমরুল কায়েস খান, ঢাকা-১৮ আসনের এস এম তোফাজ্জল হোসেন, রাজবাড়ী-২ আসনের নূরে আলম সিদ্দিক, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মোঃ রুবেল মিয়া, টাঙ্গাইল-৬ আসনের তারেক শামস খান।
রংপুর-৬ আসনের তাকিয়া জাহান চৌধুরী, লালমনিরহাট-৩ আসনের মোঃ জাবেদ হোসেন, নীলফামারী-৩ আসনের মার্জিয়া সুলতানা।
ফেনী-১ আসনের আবুল হাসেম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিজয় কুমার চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ফিরোজুর রহমান।
পাবনা-২ আসনের খন্দকার আজিজুল হক আরজু, জয়পুরহাট-২ আসনের মো. আতোয়ার রহমান মন্ডল, বগুড়া-৩ আসনের অজয় কুমার সরকার।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের দেওয়ান শাসছুল আবেদীন।
জাকের পার্টি
কুমিল্লা-৭ আসনের মো. সহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা-৩ আসনের বেনজির আলম অনন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের মোঃ মশিউর রহমান ও লালমনিরহাট-২ আসনের মো. রজব আলী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
তৃনমুল বিএনপি
বৈধতা পেয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের মো. আল মামুন ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মো. আতিকুর রহমান খান।
বাংলাদেশ সংস্কৃতিক মুক্তিজোট
ঢাকা-১৩ আসনের মো. শাহাবিুদ্দিন, রাজশাহী-৩ আসনের মোঃ এনামুল হক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের মোঃ রবিন মিয়া, চাঁদপুর-৫ আসনের আক্তার হোসেন, কুমিল্লা-২ আসনের সিরাজুল টম সুডেন ও সিলেট-১ আসনের আব্দুল বাছিত।
জাতীয় পার্টি
ঢাকা-৩ আসনের মো. ফারুক ও ঢাকা-১৯ আসনের মো. বাহাদুর ইসলাম প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম
ঢাকা-১৯ আসনের মো. সাইফুল ইসলাম ও টাঙ্গাইল-৬ আসনের খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদের ভোটের সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ কংগ্রেস
চট্টগ্রাম-১২ আসনের মোহাম্মদ মহিবুর রহমান বুলবুল, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের কামাল খান ও পটুয়াখালী-১ আসনের মো. নাসির উদ্দিন তালুকদারের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট-বিএনএফের
চট্টগ্রাম-৪ আসনের মোহাম্মদ আকতার হোসেন ও ঢাকা-১ আসনের মোঃ বাহারানে সুলতান বাহার ভোটে লড়বেন।
ইসলামী ঐক্যজোট
ঢাকা-৮ আসনের আবু নোমান মোহাম্মদ জিয়াউল হক মজুমদার ও ঢাকা-২ আসনের মাওলানা মো. আশ্রাফ আলী জিহাদী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
ইসলামিক ফ্রন্ট
চাঁদপুর-১ আসনের মো: সেলিম প্রধান। গণফ্রন্টের মানিকগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ শাহজাহান খান ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন।
আপিল শুনানির প্রথম দিনে ৫৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পায়, ৩২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও ৬টির সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পায় ৫১ জন। বাতিল হয় ৪১ জনের।
তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৬১ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র। আর স্থগিত রাখা হয়েছে ২টি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫৬১টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোট হবে ৭ জানুয়ারি।
পুরানো খবর:
আপিলেও টিকল না বিকল্পধারার মান্নানের প্রার্থিতা