Published : 13 Jul 2025, 02:48 PM
অন্তর্বর্তী সরকার সবক্ষেত্রেই ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রওশনপন্থি জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশিদ।
চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এরই মাঝে সর্বক্ষেত্রেই ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে।”
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনূর রশিদ বলেন, “দেশব্যাপী হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, খুন, দখলবাজিসহ ধারাবাহিক অপরাধী অপকর্মে গোটা জাতি চরম আতঙ্কিত।”
ঢাকার মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পুরান ঢাকায় ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাকাণ্ডসহ দেশব্যাপী হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, খুন, দখলবাজিসহ ধারাবাহিক অপরাধে গোটা জাতি চরম আতঙ্কে রয়েছে।
“বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষ এসব কল্পনাতীত অপরাধে ভীষণ অসহায় বোধ করছে। কারোরই জানমাল আজ নিরাপদ নয়। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশ এক চরম পরিণতির দিকে ধাবিত হয়ে অন্ধকারে আটকে পড়বে, যা কারোরই কাম্য নয়।”

পরিস্থিতি উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মামুনূর রশিদ বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টি মনে করে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চরম উদাসীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার পরিচয় দিচ্ছে।
“এ থেকে মুক্তির জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, ছাত্রজনতা- সবার ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”
মহাসচিব মামুন বলেন, “দেশি-বিদেশি অপশক্তি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় এবং অর্থনীতির চাকা ধ্বংস করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে।
“একই চক্রান্ত সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধেও চলছে, যাতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর অর্জিত সুনাম বিনষ্ট করা যায়।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপের ঘটনা বাণিজ্যের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করেন মামুনূর রশিদ।
তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৩৫ শতাংশ ট্যারিফ রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অশনিসংকেত। গত ১১ মাসে বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি, সার্বিক অর্থনীতি নাজুক।
“ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে সেনাবাহিনীকে এখনই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে এবং জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে।”
সেনাবাহিনীর উদ্দেশে মামুন বলেন, “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ আর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখতে চায় না।
“সেনাপ্রধানকে আহ্বান জানাচ্ছি, জাতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন, দেশবাসী আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রওশনপন্থি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুর রহমান শফিক, খন্দকার মনিরুজ্জামান টিটু, সৈয়দ ওয়াহেদুল ইসলাম তরুণ, হাফসা সুলতানা।