Published : 23 Dec 2025, 05:11 PM
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড দেখে ‘নতুন করে অনেক কিছু শিখেছেন’ বলে কটাক্ষ করেছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
নির্বাচন কমিশনের সংলাপে ডাক না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেছেন, “ইলেকশন কমিশনের প্রধান সবাইকে ডাকছে, আমাদের ডাকে নাই কেন? রাস্তাঘাটে চলবেন না? আমরা দেখছি তো। যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারা সবচাইতে বেশি শক্তিধর হয়।"
মঞ্জুর জেপি এবং আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতৃত্ব ২০টি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মঙ্গলবার ১১৯ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে।
বনানীর হোটেল শেরাটনে সেই সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সেখানে এমন কোনো অবস্থা যেন সৃষ্টি করতে না হয়, যে জান বাঁচাবার জন্য প্রতিহত প্রতিরোধ করে ফেলতে হয়।
"আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি নির্বাচন অংশগ্রহণ করার জন্য। যদি নির্বাচন করার মত পরিবেশ থাকে, পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় এবং যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে… মামলা সব মিথ্যা, সময়ের ব্যাপার মাত্র।”
তিনি বলেন, “মামলা যারা খায়, তারা পরবর্তীকালে দেশ এবং জাতির নেতা হয়। তারা পুনরায় আসেন। তারা পুনরায় দেশবাসীকে উপদেশ দেন। আমাদের জীবন কেটে গেছে।"
দেশের আইনশৃঙ্খলা পিরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মঞ্জু বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পিরিস্থিতি আগামীতে পরিবর্তন হবে, তার কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না। বরং অবনতি হওয়ার সুনির্দিষ্ট সংকেত আমরা পাচ্ছি। আমরা নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্র বিশ্বাস করি। সেজন্য নির্বাচন বয়কটের কথা আমরা চিন্তা করি না।
“কিন্তু নির্বাচন বয়কটের অবস্থা যদি আমাদের চাপিয়ে দেওয়া হয়, আমাদের কোনো উপায় নাই।”
তিনি বলেন, "আসেন আমরা এটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন করি, একটা পরিবেশ সৃষ্টি করি, যাতে দেশের মানুষ সুখে শান্তিতে নির্ভয়ে জীবন যাপন করতে পারে। সবাই কিন্তু আপনাদের পিছনে এই লাড্ডু খাওয়ার জন্য ঘোরে না।
“সাধারণ মানুষ, ১৮ কোটি মানুষ তারা কী চায়? তারা চায় নির্ভয়ে জীবনযাপন। কর্মীরা আছেন, তাদের একটাই চিন্তা যে অ্যারেস্ট করবে না। বাকিটা আমরা দেখব। সেজন্য বলি আসেন সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যবস্থা করি।"
সরকারের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, "কী বলে কী বিপদে পড়ব…। আমি তো বিপদে পড়ব না, আপনারা বিপদে পড়বেন। সেজন্য বলি, আসেন দেশটাকে গড়ি, আসেন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি।”
কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "কার কাছে নির্বাচন চাব, এরা কারা? আপনারা চেনেন? আমি তো চিনি না। আপনারা চেনেন? কারা আইসা কি কইতাছে! নির্বাচন সুষ্ঠ করার কথা, শান্তিপূর্ণ-উৎসবমুখর করার কথা!
“এটা আমেরিকায় দেখা যায়, পশ্চিম দেশে দেখা যায়। আমি আইছি ভাণ্ডারিয়া থেকে। দেখলাম, ভালোই লাগল। নতুন নতুন জিনিস... শিখলাম।”
সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের সমালোচনা করে জেপি নেতা বলেন, "ভোট কেন্দ্রে যারা যাবে, দুইটা ভোট দেবে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ এমনিতে মাথা খারাপ থাকে অভাব অনটন অশান্তির কারণে। এখন নির্বাচন কেন্দ্রে যাইয়া কী অবস্থা করবে আল্লাহ জানে।
“আমি জানি, কারণ তারা একটাই দিতে পারত না ঠিক মত, এখন দেখবে ওটা (গণভোটের ব্যালট)।
মঞ্জু বলেন, "নির্বাচন হবে, নির্বাচন হলে আমরা অংশগ্রহণ করব। যদি আমাদের নির্বাচন করতে দেয়। এই মুহূর্তে কিন্তু আমরা দাওয়াত পাইনি, দুই তিনটা দলকে দাওয়াত করছে। তারপরে বলছে যার যার ইচ্ছা আসুক।"
নির্বাচনের আগে অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত শিথিল করার সমালোচনা করে এনডিএফের সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, "আপনারা চান আমরা অস্ত্র নিয়ে আমার জনগণের কাছে যাই? ভোট চাইব কী করে–এ কথা বলতে পারেন? আপনি কেন সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না, যেখানে আমাকে বন্দুক নিয়ে আমার লোকদের কাছে ভোট চাইতে যেতে হবে না?
“আপনার বলা উচিত ছিল যে ‘আমি পরিবর্তন করে দেব, যাতে আপনারা নিশ্চিন্তে আপনাদের ভোটারদের কাছে যেতে পারেন’। আপনি কী বলছেন? আপনি বলছেন ‘আমি এগুলো পারব না। আপনারা আপনাদের নিরাপত্তা নিন। আপনারা পকেটে বন্দুক নিন, অস্ত্র নিয়ে যান।’
"আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা নির্বাচনে বিশ্বাস করি এবং সেই ধারায় আমরা প্রত্যেকটা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করি। আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনে, নির্বাচনের একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে সরকার গঠন করবে যার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন।”
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, আমরা আগামীতে দেখব কী হয়, তার পর আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। আমরা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচন করতে পারব কিনা সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত।"