Published : 14 Mar 2026, 09:28 PM
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়, এ কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা আর গণমাধ্যমের ব্যর্থতা দেখতে চান না।
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, চতুর্থ স্তম্ভ ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের বাকি তিন স্তম্ভ ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ’ হয়ে যাবে।
শনিবার সাংবাদিকদের সম্মানে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার ইফতার আয়োজনে দলের আমির প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
তিনি বলেন, “সাংবিধানিক তিন অঙ্গকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে।
“গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। এই চতুর্থ স্তম্ভ, গণমাধ্যম ঠিক থাকলে অন্য তিন স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য হবে। কিন্তু চতুর্থ স্তম্ভ ব্যর্থ হলে ভঙ্গুর হয়ে যায়, বাকি তিন স্তম্ভ অটোমেটিক ব্যর্থ হয়ে যাবে।”
বিরোধী দলের নেতা বলেন, “আমরা সেই ব্যর্থতা আর দেখতে চাই না। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যম সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার মাধ্যমে গণমাধ্যম একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমে যারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে কাজ করেছে তাদের কন্ঠরোধ করা এবং তারা সফলও হয়েছিল। সেই সফলতার রেশ এখনো চলছে বলে মাঝে মাঝে যেন মনে হয়।
“আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে আংশিক নয় পূর্ণ মুক্তি চাই। এটা যার আমলেই হোক, যখনই হোক। ফ্যাসিবাদ কখনো জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারেনি, পারবে না।”
তিনি মনে করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দিতে হবে সরকারি দলকে।
জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এক ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চাই। এবং জাতীয় ইস্যুতে, জাতীয় স্বার্থে কারো সাথে আমরা কোনো আপোস করব না।
“সরকারি দল যদি সেই ক্ষেত্রে অনড় থাকে আমরা তাদের পাশে থেকে শক্তি জোগাবো, একসাথে লড়াই করবো। কিন্তু সরকারি দল এখান থেকে বিচ্যুত হলে তাদেরকে সোজা রাস্তায় আনার চেষ্টা করবো, না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এটাই হবে জামায়াতে ইসলামীর নীতি।”
ঢাকার লেডিস ক্লাবে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ইফতার আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ।