Published : 31 May 2026, 09:03 PM
দেশের রাজনীতিতে বিএনপির হাত ধরেই সংস্কারের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কোনো দলের নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেছেন, “আজকাল একটি রাজনৈতিক শক্তি বলে সংস্কার, সংস্কার। আমরা নাকি সংস্কারে বিশ্বাস করি না, সংস্কার করছি না!
‘‘আরে সংস্কারের জন্মই তো বিএনপি দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন, এটা একটা বড় সংস্কার ছিল। জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।”
রোববার বিকালে ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এ সভা আয়োজন করে। এতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য, আলাদা করা যায় না। কারণ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটা নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুক উঠে আসে।
“জিয়াউর রহমানের প্রতি জনগণের যে আস্থা, সেই আস্থার প্রকাশ হিসেবে দেশের মানুষ যখন নতুন নেতৃত্ব খুঁজছিল, তখন একটা সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাকে আবার দায়িত্ব দিয়েছিল দেশ গঠনের। প্রথমটি ছিল দেশের স্বাধীনতার, দ্বিতীয়টি ছিল দেশ বিনির্মাণের।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা একটা অলৌকিক ঘটনা বলা যেতে পারে। যখনই মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েছে, যখন দিশেহারা, তখন ‘মেজর জিয়া বলছি’, কোন এক অখ্যাত মেজর, তার কথা কিন্তু জাতিকে জাগিয়েছে।
“আবার ঠিক ৭৫ সালে ঠিক একই অবস্থা। তখন কিন্তু আবার সেই মেজর জেনারেল জিয়া জাতিকে জাগিয়ে তুলেছে , ঐক্যবদ্ধ করেছে।”
দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মনি ও ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য রাখেন।
জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য্ অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য্ অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন।