Published : 25 Dec 2025, 11:41 AM
ফেইসবুকে ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই ঘোষণায় তিনি এনসিপির সব পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে নির্বাচন না করার কথা বলেছেন।
একই পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আরশাদুল হক চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান সমন্বয়কারী ছাড়াও দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি দলের সব রকম পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি।”
এর বেশি কিছু বলতে চাননি চট্টগ্রাম ১৬ আসন থেকে এনসিপির মনোনয়ন পাওয়া আরশাদুল। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় ক্যাম্পাস প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। পরে যুক্ত হন চব্বিশের আন্দোলনের পর গঠন করা জাতীয় নাগরিক কমিটিতে। পরে যোগ দেন এনসিপিতে।
তিনি এমন এক দিনে দল ছাড়লেন যেদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। নির্বাসিত বিএনপির এই নেতাকে স্বাগতও জানান তিনি।
দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ফেইসবুকে আরশাদুল তার দলীয় পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, ‘‘চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীসহ অন্যান্য সব দায়িত্ব ও পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি৷ আমি এই মুহূর্তে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলাম৷ চট্টগ্রাম-১৬ সংসদীয় আসনে (বাঁশখালী) এনসিপির হয়ে আমি নির্বাচন করছি না।
‘‘আজকে একটি বিশেষ দিনে এই ঘোষণাটি দিচ্ছি, যেদিন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। সুস্বাগতম।‘‘
তিনি লিখেছেন, ‘‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছিল৷ কিন্তু এনসিপির প্রতিষ্ঠা থেকে এখন পর্যন্ত গত ১০ মাসের অভিজ্ঞতায় আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে এই দল ও দলের নেতারা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন৷
‘‘যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা দেখে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম, তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই৷ দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছেন বলেই মনে করি আমি। এই ভুল পথে আমি চলতে পারি না। এই মুহূর্ত থেকে এনসিপির সাথে আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই৷ তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকবে৷ তাদের প্রতি শুভকামনা রইল৷”
এরপর ফেইসবুক পোস্টে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার কথা তুলে ধরেন। লেখেন, ‘‘এবার নতুন একটি বাংলাদেশ হবে৷ যেখানে মানুষের ন্যূনতম অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে৷ কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার বিপরীত৷ জুলাই অভ্যুত্থানের ১৪০০ অধিক শহীদ, হাজার-হাজার আহত এবং এত আত্মত্যাগের পরও একটা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্যতার বাংলাদেশ দেখতে পাইনি৷ এনসিপিও এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে৷
‘‘অস্থিরতা তৈরি করা, পবিত্র ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন তৈরি করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির একটি প্রবণতা বর্তমানে বাংলাদেশে লক্ষ করা যাচ্ছে৷ একটা গোষ্ঠী বা চক্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে৷ এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হচ্ছে গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা৷”
ছাত্রজীবন থেকে রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা তুলে ধরে দীর্ঘ পোস্টে এরপর দেশকে এগিয়ে নিতে কী করণীয় সেই কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রশংসা করেন। বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার কাছে মনে হচ্ছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার কোনো বিকল্প নেই৷”
তরুণদের উদ্দেশে মীর আরশাদুল বলেন, “তরুণদের উচিত হবে পপুলিজম বা কোনো হুজুগে প্রভাবিত না হয়ে দেশের সামগ্রিক স্বার্থ, ভবিষ্যত ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তারেক রহমানের জনকল্যাণমূলক ভিশন বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও সমর্থন জানানো৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাখলাম৷ ধন্যবাদ।”