Published : 20 Oct 2013, 07:49 PM
তবে বিএনপি নির্বাচনে না এলে আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও থাকছে বলে দুই দলের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে রোববার গণভবনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
১৫ জন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠকের পর এক সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন এরশাদ।
এরপর শেখ হাসিনা আধা ঘণ্টা একান্তে কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে, যিনি কিছু দিন ধরেই মহাজোট ছাড়ার কথা বলে আসছেন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, “আমরা মহাজোটে থেকেই নির্বাচন করব। তবে, পরিস্থিতি বলে দেবে একা নির্বাচন করব কি না।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মহাজোট অটুট আছে। আমরা মহাজোট হিসাবেই নির্বাচনে অংশ নেব।
“অন্য কোনো দল অংশ না নিলে তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি- একসাথে, না আলাদা নির্বাচন করব।”
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি বলছে, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা যাবে না এবং সে চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে।
অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় বসাতে নারাজ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তাতে অংশ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে রোববার এক অনুষ্ঠানে তিনি আবারো বলেছেন, নির্দলীয় সরকার না হলে নির্বাচনে যাবে না তার দল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টি বলেছিল, ওই প্রস্তাব অস্পষ্ট এ। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, “অস্পষ্টতা অনেকটাই কেটেছে।”
জোট শরিক দলের অস্পষ্টতার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর তো অফুরন্ত সময় ছিল না সব কিছু স্পষ্ট করার।”
আশরাফ ও রুহুল আমিন দুজনই বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের মধ্যে আরো আলোচনা হবে এবং তাতেই সব অস্পষ্টতা কেটে যাবে।
রুহুল আমিন জানান, বৈঠকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়েও তাদের আলোচনা হয়েছে।
“সকল দলের অংশগ্রহণে কিভাবে নির্বাচন হতে পারে- সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে ক্যাবিনেট কিভাবে হবে- তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”
বিএনপি না এলে অন্য দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার হবে কি না- জানতে চাইলে আশরাফ বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।
জোটে থাকলেও বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে আসা এরশাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আশরাফ বলেন, মহাজোট অটুট রাখার উদ্দেশ্যেই এই আলোচনা।
২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের হয়ে প্রায় ৩০ আসনে বিজয়ী হয় জাতীয় পার্টি। মন্ত্রিসভায় দলটির এক নেতাও স্থান পান।
তবে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হলেও তাদের ‘যথাযথ’ মূল্যায়ন হয়নি বলে প্রায় খেদ প্রকাশ করে আসছিলেন এরশাদ। যে কোনো সময় জোট ছাড়ার আগাম ঘোষণাও দিয়ে রাখেন তিনি।
আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে অভিযোগ করে সম্প্রতি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেছিলেন, বিএনপি নির্বাচনে না গেলে তার দলও যাবে না।

দেশের রাজনীতিতে আলোচিত চরিত্র এরশাদের সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া সম্প্রতি বলেছিলেন, তার কোনো কথায় আস্থা রাখা যায় না।
আশরাফ জানান, জাতীয় পার্টির পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ১৪ দলের সঙ্গেও বৈঠকে বসবে আওয়ামী লীগ।
“আমরা ঐকমত্য সৃষ্টি করতে চাই, যেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি।”
গণভবনে বৈঠকে এরশাদের সঙ্গে দলের মহাসচিব ছাড়াও ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর আহমেদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক প্রমুখ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গণভবনে পৌঁছলে তাদের অভ্যর্থনা জানান সৈয়দ আশরাফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফারুক খান, হাছান মাহমুদ ও মৃণাল কান্তি দাস।
জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আশরাফ ছাড়াও ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের,এইচ টি ইমাম, আলাউদ্দিন আহমেদ, তারেক আহমেদ সিদ্দিক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফারুক খান, হাছান মাহমুদ, মৃণাল কান্তি দাস ও আবদুস সোবহান গোলাপ।