Published : 19 Oct 2013, 02:21 PM
নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে কি না- তা আরো স্পষ্ট করা উচিত বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলটি।
আর তা না হলে ওই সরকারে জাতীয় পার্টি অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার।
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়ার পর দিন শনিবার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল জাতীয় পার্টি।
শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব রেখে তাতে অংশ নিতে আন্দোলনরত বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দশম সংসদ নির্বাচন হবে।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি।তা না হলে নির্বাচন প্রতিহত করার হুমকিও রয়েছে তাদের।
দুই দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কার মধ্যে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই এই প্রস্তাব ‘ইতিবাচক’ মনে করলেও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জোট শরিক দলের নেত্রীর ওই প্রস্তাব নিয়ে শনিবার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
বনানী কার্যালয়ে ওই বৈঠকের পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে।
“তিনি একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবে, সংসদ-মন্ত্রিসভা থাকবে কি না, লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকবে কি না, এ বিষয়গুলো স্পষ্ট নয়। এগুলো স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে আমরা মনে করছি।”
নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার হলে তাতে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে কি না- জানতে চাইলে হাওলাদার বলেন, “আপনারা অপেক্ষা করুন। আরো কিছু সময় যাক, আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করব।”
“এইটুকু বলতে পারি, সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান ভিন্ন। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না,” বলেন জাপা মহাসচিব।
নির্বাচনকালে সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাই থাকবেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জাতীয় পার্টি নেতারা তা এড়িয়ে যান।
দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, “আমাদের আজকের বৈঠক ছিল প্রধানমন্ত্রীর গতকালের ভাষণ প্রসঙ্গে। আমরা তার বক্তব্যকেই প্রাধান্য দেব, দলের অন্য কোনো নেতার বক্তব্যকে নয়।”
এরশাদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেও সাংবাদিকদের সামনে আসেননি। সভাপতিমণ্ডলীর অধিকাংশ সদস্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
বর্তমানে মহাজোটে থাকলেও এরশাদ বেশ কিছুদিন ধরে জোট ছাড়ার কথা বলে আসছেন। ওই ঘোষণা ‘যথাসময়ে’ দেয়া হবে বলে জানিয়ে আসছেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে দুই প্রধান দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েও সমালোচনামুখর সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। তার আশঙ্কা, এতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে।