১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

এমন ছাত্ররাজনীতি কোনো সভ্য দেশে আছে নাকি, প্রশ্ন টাস্কফোর্স প্রধানের

“আমরা কিন্তু আশা করেছিলাম যেভাবে স্টুডেন্ট উইংয়ের পলিটিক্স হয়ে আসছে আমাদের দেশে গত ৫০ বছরে, এটার একটা অবসান ঘটবে। কারণ এই স্টুডেন্ট পলিটিক্সের দ্বারা খুব বেশি উপকৃত হয়েছি বলে আমি বা টাস্কফোর্স মনে করে না,” বলেন তিনি।

এমন ছাত্ররাজনীতি কোনো সভ্য দেশে আছে নাকি, প্রশ্ন টাস্কফোর্স প্রধানের
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2025, 09:27 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:32 PM

দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে চলমান ধারার ছাত্ররাজনীতি চর্চার অবসান চান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণ বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রধান কে এ এস মুর্শিদ।

তিনি বলেছেন, “আমরা কিন্তু আশা করেছিলাম, একটা গতানুগতিকভাবে, যেভাবে স্টুডেন্ট উইংয়ের পলিটিক্স হয়ে আসছে আমাদের দেশে গত ৫০ বছরে, এটার একটা অবসান ঘটবে। কারণ এই স্টুডেন্ট পলিটিক্সের দ্বারা খুব বেশি উপকৃত হয়েছি বলে আমি বা টাস্কফোর্স মনে করে না।

“পলিটিক্সের নামে যেটা হয় সেটা শিক্ষকদের মধ্যে চলে যায়, ছাত্রদের মধ্যে চলে যায় এবং এখানে যে স্পেইসটা তৈরি হয়, সেটা অনেক ‘ক্রুড ইকোনমিক একটা করাপশনের’ জায়গায় চলে যায়। হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা সেটাই দেখি। কাজেই এই ধরনের স্পেইস কেন থাকবে? কোনো সভ্য দেশে কি আছে নাকি?”

সোমবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে টাস্কফোর্স কমিটির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অন্যান্য দেশের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে তুলনা করে টাস্কফোর্স প্রধান বলেন, “…একমাত্র আমাদের সাউথ এশিয়া ছাড়া আর কোনো সভ্য দেশে কি আছে এরকম স্পেইস, যেখানে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে দলভিত্তিক পলিটিক্যাল পার্টিস থাকবে? এটা কোথায় থাকে?

“এর মানে না স্টুডেন্ট পলিটিক্স ইজ ব্যাড। স্টুডেন্ট পলিটিক্যাল পার্টি অ্যালাইনড উইথ ন্যাশনাল পলিটিক্যাল পার্টি, দিজ ইজ হোয়াট উই আর এগেইন্সট। এটা আমার মনে হয়, সিরিয়াসলি কনসিডার করা উচিৎ।”

তবে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “স্টুডেন্ট পলিটিক্স তো থাকবেই। কারণ তাদের মতামত থাকবে, অ্যাক্টিভিজমে থাকবে, তারা স্যোশাল ইশুজ, পলিটিক্যাল ইশুজ, অন্যান্য সব ইস্যু নিয়ে তারা সোচ্চার হবে। অ্যাক্টিভ একটা পজিটিভ রোল প্লে করবে। সেটার জন্য আমাদের কিছু ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়া উচিৎ। একটা প্লাটফর্ম করা।”

বিষয়টি নিয়ে পরে শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “যে স্টুডেন্ট পলিটিক্স এটাকে প্রিভেন্ট করে সেটা হল খারাপ স্টুডেন্ট পলিটিক্স।…যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আচরণবিধি থাকতে হবে। কেমব্রিজ, অক্সফোর্ডে যেরকম আচরণবিধি, আমাদের দেশে সেইরকম হয়ত হবে না। কিন্তু ওই একটা কথাই বললাম যেটা, ওইরকমের আচরণবিধি অ্যালাউ করে সে ধরনের স্টুডেন্ট পলিটিক্স, খুবই ভালো কথা যদি থাকে।”

গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর এই টাস্কফোর্স গঠন করে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুর্শিদ হন ১২ সদস্যের এই টাস্কফোর্সের সভাপতি। সদস্য সচিব হন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগ) মো. কাউসার আহাম্মদ।