Published : 30 Jan 2026, 09:36 PM
‘দুই মাস আগে পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ ও মাহফুজ’ শিরোনামে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শুক্রবার এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেছেন, গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ‘পদত্যাগের পরেও সরকারি বাসায় বসবাস করার’ যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
আসিফ মাহমুদ বলন, "আমি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করি এবং একই মাসের ৩১ তারিখে হেয়ার রোডের সরকারি বাসা 'নিলয়-৬' যথাযথভাবে হস্তান্তর করি। বর্তমানে আমি আমার নিজস্ব বাসায় বসবাস করছি এবং সেখান থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
"প্রকাশিত সংবাদের একাংশে দাবি করা হয়েছে যে, ওই বাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। বাস্তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মচারীই অবগত আছেন যে, আমি বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উক্ত বাসায় বসবাস করছি না।”
সকল আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বাসাটি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কাছে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর’ করা হয়েছে বলেও প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের বিশেষ সহকারী মেহেদী হাসান মুন্না স্বাক্ষরিত এই প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে, "উক্ত সংবাদে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান-এর একটি বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, তিনি সচিব মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং আসিফ মাহমুদ কবে নাগাদ বাসাটি ছাড়বেন সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এই বক্তব্যও সম্পূর্ণ অসত্য।”
আবাসন বরাদ্দ নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দুই মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকতে পারবেন।
আসিফ মাহমুদ “ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ২১তম দিনে” বাসা হস্তান্তর করেন দাবি করে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, “মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলেই এর সত্যতা সহজেই প্রমাণিত হবে।"
আসিফ মাহমুদ তার বাসা হস্তান্তরের একটি ‘নথি’ প্রতিবাদ লিপির সঙ্গে পাঠিয়েছেন।
“উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানি করার লক্ষ্যে” ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রতিবেদনটি তৈরি করার সময় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তখনও তিনি এক মাস আগে বাসা ছেড়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। তার সেই বক্তব্য ওই প্রতিবেদনেই আছে।
কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে বুধবার রাতে হেয়ার রোডের ওই বাসার সামনে গিয়ে দায়িত্বরত একজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। ওই কর্মচারী তখন বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাসা ‘ব্যবহার করছেন’।
দায়িত্বরত আরেকজন কর্মচারীও বলেন, “স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি।”
নিলয়-৬ এর আশপাশের উপদেষ্টাদের বাসায় দায়িত্বরত একজন নিরাপত্তা সদস্য বলেন, “এখানে তিনি নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, লোকজন নিয়ে আসেন, এখানে থাকেন।”
যোগাযোগ করা হলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, সাবেক দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বাসা ছাড়েননি।
“এ বিষয়টি আমি সচিব স্যারকে অবহিত করেছিলাম, এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব।”
শুক্রবার আসিফ মাহমুদের প্রতিবাদলিপির সঙ্গে পাঠানো ‘প্রমাণপত্রে’ দেখা যায়, সরকারি বাসা ও আসবাবপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার একটি নথি সংযুক্ত করা হয়েছে। তাতে ৩১ ডিসেম্বরে তারিখ দেওয়া আছে।
রমনা গণপূর্ত উপ বিভাগ-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মেহবুবার রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই হস্তান্তরপত্র গত সপ্তাহে তিনি হাতে পেয়েছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "বাসা বুঝিয়ে দেওয়ার একটা ফরম্যাট করে পাঠাইছে আমাদেরকে। এটা আমার সেকশন জমা দেওয়ার পর আমার কাছে আসে। গত সপ্তাহে আমি পেয়েছি।”
বাসা বুঝে নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বাসা যেটা হচ্ছে, উনারা থাকে না, আস্তে আস্তে মালামাল নেবে কিছু মালামাল থেকে যায়। চিঠিতেই বাসা আমরা ফরমালি বুঝে নিচ্ছি ধরে নেওয়া হয়, নিরাপত্তার লোকজন এখনও রয়েছে।"