Published : 31 Dec 2025, 11:26 PM
ভারতের এক কূটনীতিক এ বছর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, তবে ভারতীয়দের ইচ্ছায় সে সময় তা প্রকাশ না করার কথা রয়টার্সকে বলেছেন জামায়াত আমির।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচন ঘিরে দলের পরিকল্পনার বিষয়েও রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন শফিকুর রহমান; শুনিয়েছেন ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও।
তিনি বলেছেন, “আমরা অন্তত পাঁচ বছর দেশটা স্থিতিশীল দেখতে চাই। যদি দলগুলো একমত হয়, তাহলে আমরা সবাই মিলে দেশটা চালাব।”
গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতসহ আট রাজনৈতিক দলের জোটে যোগ দেয় জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রয়টার্স লিখেছে, এনসিপিকে জোটে টানার পরে নিজের বাসভবনে এ সাক্ষাৎকার দেন জামায়াত আমির।
ওই সাক্ষাৎকার ধরে বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স, যার শিরোনাম ছিল ‘ঐকমত্যের সরকার গঠনে রাজি বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দল’।
জামায়াত আমির বলেন, “ঐকমত্যের সরকার গঠন হলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবার অভিন্ন অবস্থান থাকতে হবে।”
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল হিসেবে ক্ষমতায় ছিল জামায়াতে ইসলামী।
ঐকমত্যের সরকারের রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, সেই দল থেকে প্রধানমন্ত্রী আসবে। আর জামায়াত জিতলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত দল থেকে নেওয়া হবে।
রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনীতিতে জামায়াতের পুনরুত্থান ঘটে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড হয়।
শর্ত পূরণ না হওয়ায় ২০১৩ সাল থেকে জামায়াত নির্বাচনেও নিষিদ্ধ ছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলটির উপর থেকে সব বিধিনিষেধ উঠে যায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। তাদের আশ্রয় দেওয়াসহ নানা কারণে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।
জামায়াত আমির বলেন, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান একটি উদ্বেগের বিষয়।
রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি। জামায়াত আমিরের বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর একজন ভারতীয় কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
শফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে রয়টার্সকে বলেছেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরাও সে সময় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, সেসব খবর প্রকাশও করা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ওই কর্মকর্তা তাদের বৈঠকের কথা গোপন রাখার অনুরোধ জানান।
“কেন? অনেক কূটনীতিক তো আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, আর তা প্রকাশ করা হয়েছে। সমস্যাটা কোথায়?
“আমাদের সবার জন্য উন্মুক্ত হতে হবে, পরস্পরের প্রতিও উন্মুক্ত থাকতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নে এর কোনো বিকল্প নেই।”
রয়টার্স বলেছে, জামায়াত আমিরের এ বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তারা পায়নি। তবে মোদী সরকারের সূত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ‘ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা’ নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমরা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়তে আগ্রহী নই।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে যে সরকারই গঠন করা হোক, তাকে নিয়ে কেউ ‘স্বস্তিবোধ করবে না’।
ডিসেম্বরের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি ‘অপমানবোধ’ করছেন; সংসদ নির্বাচনের পরেই তিনি বঙ্গভবন থেকে সরে যেতে চান।
রয়টার্স বলেছে, জামায়াত আমিরের সবশেষ মন্তব্যের বিষয়ে বুধবার তারা টেলিফোনে সাহাবুদ্দিনের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তিনি চান না যে ‘পরিস্থিত আরো জটিল হোক’।