Published : 16 Jul 2025, 11:44 PM
নতুন সংবিধান ও ‘মুজিববাদের কবর রচিত’ না হওয়া পর্যন্ত ‘জুলাই’ অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি— এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল্লাহ হায়দার।
দলের ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে বুধবার রাতে বাংলা মোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মশাল মিছিল বের করেন দলের নেতাকর্মীরা।
মিছিলের আগে সমাবেশে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, “সারা বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা গোপালগঞ্জে গিয়ে ঘাপটি মেরে অবস্থান করেছিল।
“আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা থাকার পরও সমাবেশের আগেই আমাদের সভামঞ্চে হামলা চালিয়েছে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা। পুলিশ সেখানে নিরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়েছিল। অথচ গত জুলাইয়ে তারা কী পরিমাণে অস্ত্র চলিয়েছিল।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তারা চেয়েছিল অভ্যুত্থানের নায়কদের সেখানে হত্যা করতে। অন্তর্বর্তী সরকার যদি অভ্যুত্থানের নায়কদের রক্ষা করতে না পারেন, আগামীকালই আপনারা ইস্তফা দিন।”
তিনি বলেন, “আমরা এখন বোনাস লাইফ লিড করছি। এই ছোটখাটো হামলা করে আমাদেরকে ভয় দেখানো যাবে না; জুলাইকে দমিয়ে রাখা যাবে না। যতদিন পর্যন্ত নতুন সংবিধান ও মুজিববাদের কবর রচিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত জুলাই চলবে।
“এই গোপালগঞ্জে ইতোপূর্বে সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। আমরা কিন্তু সেটা ভুলে যাইনি। আজ পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে, ইউএনওর গাড়িতে আগুন দিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
বাংলামোটর থেকে মশাল মিছিলটি কারওয়ান বাজারে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব নিজামউদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এসএম শাহরিয়ার, সংগঠক সানাউল্লাহ খান ও ফয়সাল মাহমুদ।
বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই গোপালগঞ্জ শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলানো হয়।
বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এসবের মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় টেকেহাট হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার পথে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের হামলা হয়।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ পরিস্থিতিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়েন।
দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সন্ধ্যায় কারফিউ জারির ঘোষণা আসে।