১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারে থাকা ‘দলীয় লোকদের’ পদত্যাগ চায় সিপিবি

জাতীয় নির্বাচনে সিপিবি ও বামজোট মিলে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলছে দলটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Oct 2025, 08:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:32 PM

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘নির্দলীয় রূপে’ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ দাবি তুলে ধরে বলা হয়েছে, “একটি নবগঠিত রাজনৈতিক দলসহ ক্ষমতাসীন সরকারে থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দলের পরামর্শক, পৃষ্ঠপোষক ও দলীয় পরিচয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের পদত্যাগ করার মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে “ 

সিপিবির তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির সভার তথ্য দিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় দলের এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “জাতীয় নির্বাচনে সিপিবি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটসহ বামপন্থী, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দল, সংগঠন ও ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।”

এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাজ ও জোরালো রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেছে সিপিবি।

দলের তরফে বলা হয়েছে, ‘জনতার সনদ’ প্রণয়ন ও সেই অঙ্গীকার নিয়ে সিপিবি সমর্থিত প্রার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। 

বিদ্যমান সংবিধানের চার মূলনীতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের প্রশ্নে আপস করার কোনো সুযোগ নেই দাবি করে সিপিবি বলেছে, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো যেসকল বিষয়ে সর্বসম্মত হতে পারেনি, সেসকল বিষয়ে গণভোট কিংবা সাংবিধানিক আদেশ জারির কোনো এখতিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই।”

সভায় বলা হয়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক (চট্টগ্রাম বন্দরের) তিনটি টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা প্রদান এবং সাম্রাজ্যবাদী ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তির প্রয়োজনে বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত করার সকল অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই পরিচালনা করা হবে।”

বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জাতীয় সমাবেশ’ করার বিষয়টিও তুলে ধরেছে সিপিবি। 

এছাড়া আগামী ৩১ অক্টোবর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক কনভেনশন, ২৮ নভেম্বর গ্রাম ও শহরের শ্রমজীবী মানুষের রাজনৈতিক কনভেনশন, ৫ ডিসেম্বর নারী সমাজের রাজনৈতিক কনভেনশন এবং ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। 

সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন রাজনৈতিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন। 

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের আলোচনার মধ্য দিয়ে রিপোর্ট গৃহীত হয়। 

সভায় বক্তব্য রাখেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রফিকুজ্জামান লায়েক, এস এ রশীদ, রাগীব আহসান মুন্না, জলি তালুকদার, মো. আমিনুল ফরিদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, রুহিন হোসেন প্রিন্স, মিহির ঘোষ, শাহীন রহমান, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, পরেশ কর, অধ্যাপক এম এম আকাশ, মৃণাল চৌধুরী, দিবালোক সিংহ, এমদাদুল হক মিল্লাত।