Published : 07 Aug 2026, 02:42 PM
টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, "গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।"
রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে শুক্রবার তিনি কথা বলছিলেন।
মির্জা ফখরুলের কথায়, গণতন্ত্র কেবল ‘নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতি’।
টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে তাগিদ দেন তিনি।। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না গেলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এখানে কোনো ধরনের আত্মসেন্সরশিপ থাকা চলবে না।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
গণতন্ত্রকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, "মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।"
সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।