Published : 13 May 2026, 08:30 PM
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে রাজনীতির একটি যুগের ইতি ঘটল। জাতি এমন একজন নিবেদিত নেতাকে হারাল, যার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-এক্সে শেখ হাসিনার শোকবার্তা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ, যে দলটির কার্যক্রম এখন দেশে নিষিদ্ধ।
এতে চব্বিশের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে নয়া দিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, “যিনি মুক্তিযুদ্ধে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ৫৪ বছর ধরে রাজনীতি ও জনসেবায় যুক্ত ছিলেন, তাকে জীবনের সবচেয়ে অসহায় সময়ে যথাযথ মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে মৃত্যু হয় সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের; বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা। যেসব নেতা দেশে আছেন, তাদের কেউ কেউ আত্মগোপনে, কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে।
আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামলার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। প্লট ও দুর্নীতির মামলাতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাজা হয়েছে।
মোশাররফ হোসেন গ্রেপ্তার হন ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর; ঢাকার ভাটারা থানা এলাকা থেকে। গ্রেপ্তারের পর তাকে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।
পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২০২৫ সালের ১৪ অগাস্টে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
শেখ হাসিনা মনে করেন, মোশাররফের শারীরিক অবস্থা ভেঙে পড়ার পেছনে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দায় ছিল।
শোকবার্তায় তিনি বলেন, “অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ইউনূস সরকার প্রবীণ রাজনীতিক মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগলেও তাকে মিথ্যা মামলায় আট মাস কারাবন্দি রাখা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
“অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। জামিন পাওয়ার আগেই তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।”
১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হয়েছেন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।
আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের। এ দলটি এর আগে তিন দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল।
আরো পড়ুন
সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু
চিরবিদায় নিলেও মোশাররফ ভাই মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবেন: আনিস